চীনে এখনও বিক্রি হচ্ছে বন্যপ্রাণী!

সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) ঘরবন্দি পুরো বিশ্ব। মরছে মানুষ, চারদিকে কফিনের সারি। শোক দেখাতেও ভুলে গেছে মানুষ। থমকে গেছে অর্থনীতিসহ সবকিছু। প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে নগরীগুলো ভূতুড়ে হয়ে উঠেছে। চারদিক জনশূন্য, শুনশান। যেন এসব জায়গায় কেউ বাস করে না। পৃথিবীর অবস্থা যখন বিপর্যস্ত, তখন চীনের উহানসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও বন্যপ্রাণী বিক্রি শুরু হয়েছে। খবর ডেইলি মেইল।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইল বলছে, উহান, চীনের যে শহরের বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি এই ভাইরাসে চীনেও সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও দেশটিতে আবারও বন্যপ্রাণী বিক্রি শুরু হয়েছে।

মহামারী ঘোষিত এই ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত যে প্রাথমিক ধারণা করছেন, তার মধ্যে সামুদ্রিক প্রাণী, প্যাঙ্গোলিন ও বাদুড়ের নাম উঠে এসেছে। জৈব-অস্ত্রের কথাও অনেকে বলছেন। তবে কোনোটিই এখনও প্রমাণিত নয়।

চীনে করোনা ভাইরাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তবে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। দীর্ঘ দুই মাস পর উহান শহরের লকডাউন আংশিক তুলে নেয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে চীনে। স্বাভাবিক হচ্ছে সব কিছু। একইসঙ্গে দেশটির অনেক বাজারে পুনরায় বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী। যদিও করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে দেশটির সরকার সব ধরনের প্রাণী বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল।

ডেইলি মেইলের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ভয়াবহ এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে চীনের বাজারগুলো আগের মতোই চলছে। জীবাণুমুক্ত থাকার ব্যাপারে কোনও ধরনের সচেতনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যে বাদুড় থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি বলে মনে করছেন গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা, এখনও সেই বাদুড় বিক্রি চলছে।

চীনের বিভিন্ন বাজারে খাঁচাবন্দী কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী রাখা আছে বিক্রির জন্য। সেখানকার প্রচলিত পথ্য হিসেবে বাদুড়ের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বিছেসহ নানা ধরনের বিষধর প্রাণীও। বিভিন্ন দোকানের বাইরে ঝোলানো হয়েছে পোস্টার। কোন জিনিস খেলে কী রোগ সারবে তাও ছবি দিয়ে দেখানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৯৫৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ হাজার ৯৫ জন।

এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ৪ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ২৮৫ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫২ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৯ হাজার ৬৬৩ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২৬ হাজার ৭৮৯ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালি। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ১০ হাজার ৭৭৯ জন।ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি স্থান চীনকেও পেছনে ফেলেছে স্পেন। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৮০৩ জন। আর যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৪৭৫ জন। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।