ব্রিটেনে একদিনে ২৬০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসে ব্রিটেনে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড এ নিয়ে করোনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে।

এছাড়া করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৫৪৬ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র ১৩৫ জন।

ব্রিটেনে বর্তমানে ১৫ হাজার ৯৩৫ জন আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ হাজার ৭৭২ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ১৬৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ম্যাট হ্যানকক জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছেন। তবে তার দেহে করোনার উপসর্গ এখনও তেমন গুরতর না।

তার এই ঘোষণার দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও টুইটারে তার করোনা আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেন।

বরিসের আগে ব্রিটেনের হাইপ্রোফাইলড নেতাদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ বছর বয়সী প্রিন্স চার্লস (সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরসূরি)। তাকেও এখন আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

ম্যাট হ্যানকক লিখেছেন, ‌‌‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আমি করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাই। পরীক্ষায় ফলাফল পজিটিভ এসেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমার করোনা উপসর্গ গুরতর নয় এবং আমি স্বেচ্ছা আইসোলেশনে ঘর থেকেই আমার কাজ চালিয়ে যাব।’

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে বলে শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় নিজেই এ খবর জানান ৫৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে গেছেন তিনি। বরিস জানান, ঘরে থেকেই তিনি সরকারি সব কাজ করবেন।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৮৭৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ হাজার ৫০৭ জন। চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০। চীনের বাইরে মারা গেছে ২৭ হাজার ৫৭৯ জন।

এই ভাইরাসে বিশ্বে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪০ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৩ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৮২ হাজার ৩০৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬ হাজার ৬০১ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৪ লাখ ৯০ হাজার ১৬৩ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২৫ হাজার ৪১২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।