করোনায় মৃত্যুপুরী ইতালি, আরও ৮৮৯ জনের প্রাণহানি

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত ইতালিতে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৩ জনে।

এছাড়া করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৯৭৪ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৯২ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন ১২ হাজার ৩৮৪ জন।

ইতালিতে বর্তমানে ৭০ হাজার ৬৫ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৬ হাজার ২০৯ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ৩ হাজার ৮৫৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

এদিকে ইাতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে করোনা সংকট নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রতিদিন জনগনকে সচেতন ও মনোবল বৃদ্ধি করতে ভাষণ দিচ্ছেন। পাশাপাশি গোটা ইতালিতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে ইতালির চিকিৎসা খাতে সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ। দেশটিতে বিনামূল্যে করোনার পরীক্ষাসহ সকল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছড়া স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার খরচও সরকার বহন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কেউ নিজেকে অসহায় মনে করবেন না, রাষ্ট্র সবার পাশে আছে। আজ আমরা পরস্পর দূরত্ব বজায় রাখবো, কাল আবার কাছে জড়িয়ে নেব, আজ আমরা থামবো, আগামীকাল অনেক দ্রুত এগুনোর জন্য। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সফল হবোই।’

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৮৫১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ হাজার ৫০৭ জন। চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০। চীনের বাইরে মারা গেছে ২৭ হাজার ৫৫১ জন।

এই ভাইরাসে বিশ্বে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৩ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৮১ হাজার ৫২৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬ হাজার ৬০১ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৪ লাখ ৯০ হাজার ১৬৩ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২৫ হাজার ৪১২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।