করোনায় বিধ্বস্ত স্পেন, আরও ৮৪৪ জনের মৃত্যু

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত স্পেনে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৮৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে করোনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৯৮২ জনে।

এই ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৭ হাজার ৫১৬ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ হাজার ২৩৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন ১২ হাজার ২৮৫ জন।

স্পেনে বর্তমানে ৫৪ হাজার ৯৬৮ জন আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫০ হাজার ৮০৩ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ৪ হাজার ১৬৫ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকংশই আইসিউতে রয়েছেন।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির পরই স্পেনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মাদ্রিদের একটি হাসপাতালের ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে শত শত মানুষ বারান্দায়, ব্যালকনিতে কিংবা হাসপাতাল কক্ষের সামনে শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই হাঁচি-কাশি দিচ্ছেন, অনেকেই অক্সিজেন নিচ্ছেন।

এছাড়া আরও শত শত মানুষকে হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে দেখা যায়, যারা চিকিৎসা নেয়ার জন্য মাদ্রিদের ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে স্পেন। হাসপাতাল কর্মীদের সংগঠন জেনারেল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কারের নেতা জাভিয়ার গার্সিয়া স্থানীয় দৈনিক এল মুন্ডকে বলেন, হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই শয্যা না পেয়ে মেঝেতে অথবা প্ল্যাস্টিকের চেয়ারে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছেন।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৮৫১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ হাজার ৫০৭ জন। চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০। চীনের বাইরে মারা গেছে ২৭ হাজার ৫৫১ জন।

এই ভাইরাসে বিশ্বে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৩ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৮১ হাজার ৫২৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬ হাজার ৬০১ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৪ লাখ ৯০ হাজার ১৬৩ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২৫ হাজার ৪১২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।