তরুণীর সংস্পর্শে শিশুসহ ৫ জনের করোনা

শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতি করোনা। তেমনই ভারতের নদিয়ার তেহট্টে এক তরুণীর সংস্পর্শে এসে শিশুসহ ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। করোনা-সন্দেহভাজনের তালিকায় চলে এসেছিলেন ১৩ জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়েছে, লন্ডনে ওই তরুণীসহ পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট শুক্রবার পজ়িটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে ২৭ বছরের তরুণী ছাড়াও তার ন’মাস ও ছ’বছরের দু’টি মেয়ে ছাড়াও ৪৫ বছরের এক নারী ও তার ১১ বছরের ছেলে আছেন। তারা ওই তরুণীর আত্মীয়। আক্রান্তদের বাড়ি উত্তরাখণ্ডে। তাদের বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে আনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একাংশ জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চললে তরুণীর সঙ্গে একসঙ্গে এত জন ভয়াল ভাইরাসে আক্রান্ত হতেন না। তরুণীর এক ভাই ১৬ মার্চ লন্ডন থেকে দিল্লিতে ফেরেন। তাকে নিতে তরুণী ছাড়াও পরিবারের আরও কয়েক জন দিল্লি যান। সেখানে পারিবারিক সম্মিলনী হয়। তার পরে বিলেতফেরত ভাইয়ের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। তাকে দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিছুদিনের মধ্যে ২২ বছরের ওই যুবকের ভাইয়ের শরীরেও সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়। তাকে রাখা হয় লোহিয়া হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে। চিকিৎসকেরা ওই তরুণীকে ২৮ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু তরুণী এবং তার পাচ সঙ্গী দু’দিনে রাজধানী এক্সপ্রেসে চলে আসেন শিয়ালদহে। লালগোলা প্যাসেঞ্জারে পৌঁছান বেথুয়াডহরিতে। সেখান থেকে অটোয় তেহট্টের বার্নিয়া গ্রামের বাড়িতে ফেরেন ওই ছ’জন। তরুণীর এক সঙ্গী ফেরেন বিমানে।

স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রণালয়ের একাংশের বক্তব্য, কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ না-মেনে তরুণী যে রাজ্যে ফিরেছেন, দিল্লির কাছে সেই খবর ছিল না! জেলা স্বাস্থ্য দফতর নজরদারির যে-প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তার মাধ্যমে তরুণীর কথা জানা যায়। তার পরে রাজ্য সরকার বিষয়টি দিল্লিকে জানায়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘তরুণীর পরিবার যে রাজ্যে এসেছে, দিল্লির তরফে সেটা আমাদের জানানো উচিত ছিল। কিন্তু ওরা কোনও তথ্য দেয়নি। আমাদের নজরদার দল যে-ভাবে ওই তরুণী এবং তার স্বজনদের চিহ্নিত করেছে, তা প্রশংসনীয়। এ-পর্যন্ত রাজ্যে যে-ক’জন আক্রান্ত হয়েছেন, ভিন্নদেশ বা ভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যোগ রয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই। স্থানীয় স্তরে সংক্রমণ এখনও ছড়ায়নি। এই যুদ্ধে সাধারণের সহযোগিতা থাকলে আরও সন্তোষজনক ফল মিলবে।’