৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন

বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০

ঢাকা: রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে যশোর কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট বিড়ি ও সিগারেট প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গত আট মাসে ৫ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৯ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে। এসব কর ফাঁকির বিপরীতে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে রায় এলে কর ফাঁকির এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

জানাগেছে, সম্প্রতি যশোর জোনে বেশকিছু অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযান থেকে ৫০ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করা হয়। গত আট মাসে এ জোন থেকে শতাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিবন্ধিত করদাতার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে যেসব সংস্থা জড়িত, তাদের প্রাঙ্গণেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আর যেসব পরিবহন সংস্থায় অভিযান চালানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ছিল কুরিয়ার সার্ভিস, রেলস্টেশন, ট্রেন ও পাবলিক বাস।

এছাড়া প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম পরিচালনা করে সিয়াম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের (ফরিদপুর) ২৫ লাখ ৯৭ হাজার ১৯৬ টাকার অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে। জড়িত রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম চলমান। আর একটি ইটভাটার কিস্তির টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করায় গাড়ি আটক করে ২০ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিজিবিসহ টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যসহ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যেসব মামলা থেকে ৫২ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৩ টাকার রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিনটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। যশোর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের গত আট মাসে উদ্ভাবনী কার্যক্রম, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিকরণে গৃহীত কার্যক্রম ও অভিযান পরিচালনাসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখান থেকেই এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে যশোর কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট মুহম্মদ জাকির হোসেন বলেন, অনিয়ম করলে অভিযান পরিচালনা করে নিয়মানুযায়ী মামলা করা হবে। এসব পদক্ষেপ আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ। আর আমরা দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, কোন কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির মধ্যে কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাদের অতীত কী বা কেমন; সেটাও জানি। তাই আমরা যখন অভিযান পরিচালনা করি, সে তালিকা ধরেই করি। তবে এ সময়টাতে আমাদের কোনো বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি। কারণ করদাতারা তো বোঝেন কোনটি আইন প্রয়োগ করার জন্য অভিযান আর কোনটি হয়রানির জন্য করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরে যে পরিমাণ করদাতা রয়েছেন তার ৯৪ শতাংশ বর্তমানে অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করেন। এ বিষয়টিকে যশোর কাস্টমস তাদের সফলতার অংশ হিসেবেই দেখছেন। এ নিয়ে জাকির হোসেন বলেন, যশোরের করদাতারা বেশ আধুনিক ও সচেতন। এটা আমাদের জন্য বড় একটা সাফল্য। আর আমাদের ভ্যাট নেট প্রশস্ত হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরই যশোরের অবস্থান চলে এসেছে।

তিনি জানান, কমপ্লায়েন্ট করদাতাদের মধ্যে প্রায় শতভাগ অনলাইনে দাখিল পেশ করেন। অন্যসব কমিশনারেট মিলে যত অনলাইন রিটার্ন জমা হয়, তার প্রায় অর্ধেক যশোর কমিশনারেটের। কেন্দ্রীয় নিবন্ধন, নতুন অব্যাহতি এবং আগাম করের হিসাব নতুন পদ্ধতিতে করায় যশোর কমিশনারেটের প্রায় ৩২০ কোটি টাকা ঢাকার কমিশনারেটগুলোতে চলে গেছে। যশোর কমিশনারেট বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২১৮ কোটি টাকা পেছনে আছে। তবে যদি আগের মতোই কার্যক্রম পরিচালনা হতো তাহলে ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব বেশি আদায় করা সম্ভব হতো।

এদিকে যশোর কাস্টমস আলোচ্য সময়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ভ্যাট আদায়ে সনাতন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলাফলভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, করদাতাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, করদাতা শিক্ষণ, ভ্যাট কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশিক্ষণ, ভ্যাট প্রতিপালন, ভ্যাট নেট প্রশস্তকরণ, আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় বৃদ্ধি, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগ।