গুলশানের পথে খালেদা জিয়া, নেতাকর্মীদের ঢল-বাঁধ ভাঙা উল্লাস

বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০

ঢাকা : মুক্তি পাওয়ার পর গুলশানের বাসার দিকে রওনা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে নেতাকর্মীদের বাধ ভাঙা ঢল নেমেছে। স্লোগানে স্লোগানে নেতাকর্মীরা গাড়ি বহরের সঙ্গে শোডাউন দিতে দিতে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে শাহবাগ থেকে গুলশানের দিকে অবস্থান নিয়েছেন। কর্মীদের উজ্জীবিত করতে স্লোগান দিচ্ছেন অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও।

এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

বিএসএমএমইউ থেকে বের হওয়ার পরপর সেখানে অবস্থান করা নেতাকর্মীরা ‘খালেদা’, ‘খালেদা’, ‘জিয়া, ‘জিয়া’ মুহুর্মুহু স্লোগান ধরেন। স্লোগানে স্লোগানে কম্পিত বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনের এলাকা।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহর গিয়ে শোডাউন করছে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গাড়িবহরে নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়ে বেগম জিয়াকে গুলশানের দিকে নিয়ে অগ্রসর হয়েছে।

এর আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির খবরের পরপরই নেতাকর্মীরা শাহবাগ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরের দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল আশপাশে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ দুই বছর পর নেতাকর্মী নেত্রীকে একনজর দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন।

এর আগে মঙ্গলবারই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সাজা স্থগিতের আবেদনের ফাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে এরই মধ্যে কারা অধিদফতরে পৌঁছায়। পরে কারা অধিদফতরের মুক্তির প্রক্রিয়ার শেষ করে দুপুরের দিকে বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার মুক্তির চিঠি নিয়ে যান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। সব প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

এর আগে বেলা দেড়টায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী খালেদা জিয়া আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাড়া পাবেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকালে হঠাৎ করেই ডাকা সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়াকে মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মুক্তির শর্ত হিসেবে বাসায় অবস্থান করতে হবে খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। সাজা মওকুফকালীন ছয় মাস তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।