আশুলিয়ায় চাঁদাবাজির টাকায় আওয়ামী লীগ নেতার বিলাসবহুল জীবন

বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে : সাভার উপজেলার আশুলিয়াতে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতিন হঠাৎ করে যেন পেলেম আলাউদ্দিনের চেরাগ! চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজির টাকায় নির্মাণ করেছেন ৬ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল আলিশান বাড়ি। তার বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণ নিয়ে নানা কৌতুহল এখন এলাকাবাসীর মাঝে।

বিভিন্ন দেশ থেকে আনা কারুকার্য করা টাইলস ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে করা হয়েছে সেই বিলাসবহুল বাড়ির সাজসজ্জা। ধামসোনা ইউনিয়নের পাবনারটেক এলাকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতিনের বিষয় অনুসন্ধান করতেই বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, মতিউর রহমান মতিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই ফুটপাতে চাঁদাবাজি , ডিস ব্যবসা দখল, ঝুটের ব্যবসা দখল, পদ বাণিজ্য তদবির, জমি দখলসহ নানান অপকর্মের সাথে লিপ্ত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নামে নতুন ইপিজেড ঢাকারিয়া ফ্যাক্টরি হইতে প্রতি মাসে তিন লক্ষ টাকা, নতুন ইপিজেড গেট সংলগ্ন CKBL ফ্যাক্টরি হইতে প্রতি মাসে দেড় লক্ষ টাকা, পুরাতন ইপিজেড হোপলন ফ্যাক্টরি থেকে ২ লক্ষ টাকা মাসিক হারে চাঁদা নেন তিনি।

এছাড়া ভাদাইল টু পবনারটেক ইজিবাইক স্ট্যান্ড থেকে মাসে ১০ লক্ষ টাকা, শ্রীপুর হইতে বলিভদ্র বাজার পর্যন্ত ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে ১ লক্ষ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয় তার বাহিনীর লোকজন।

তার আপন ছোট ভাই এসাহাক কে দিয়ে এলাকার ডিস ও ইন্টারনেটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন।

তার নামেই পরিচালিত হয় মাদক ব্যবসাও। আশুলিয়ার মাদক সম্রাট খ্যাত সুলতান তারই আপন চাচাতো ভাই । দীর্ঘদিন মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সুলতানের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় রয়েছে ১৩টির অধিক মামলা।

মতিনের দাপটে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ান তার ভাতিজা সোহেল ও চাচাতো ভাই হযরত। দাপটের সাথে ধামসোনা ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা করেন এই দুই ব্যক্তিও।

এছাড়াও মান্নান কন্টাক্টার নামে এক ব্যক্তির বাড়ি দখল করে তার জামাতা এনামুলকে হস্তান্তর করেন আওয়ামী লীগ নেতা মতিন।

মতিউর রহমান মতিনের আপন চাচাতো ভাই আলিমুজ্জামান আলেক ২০১৭ সালের ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আশুলিয়া থানায় যার নামে রয়েছে একাধিক মামলাও। কিন্তু মতিনে দাপটে আলিমুজ্জামান আলোক এখন ঢাকা জেলা কৃষকলীগের প্রচার সম্পাদক।

অন্যদিকে, মতিনের আপন চাচা ফজর আলীও আশুলিয়া থানায় বিএনপি’র জ্বালাও-পোড়াও মামলার আসামি। তার ভাগিনা ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নামে আশুলিয়া থানায় রয়েছে ৬টি বিএনপির জ্বালাও পোড়াও নাশকতা মামলা।

তবে যোগাযোগ করা হলে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতিন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেন। তবে তার আত্মীয় ও পরিবার-পরিজন বিএনপির রাজনীতি এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

এদিকে, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। দলের নাম ভাঙিয়ে একের পর এক অপকর্মের সাথে জড়িত থাকায় এই বিতর্কিত নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মীরাও।