আজই মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া, প্রস্তুত ফিরোজা

বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০

ঢাকা: কিছু আইনি ও বিধিবিধানগত বাধ্যবাধকতার কারণে মঙ্গলবার রাতে মুক্তি পাননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে আজ তিনি মুক্তি পাচ্ছেন। বুধবার মুক্তির আদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করার পর ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া শেষে যেকোনও সময় মুক্তি পাবেন কারা নজরদারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দুই বছরেরও বেশি সময় কারা হেফাজতে থাকার পর আজ মুক্তি পেয়েই তিনি যাবেন প্রিয় প্রাঙ্গণ গুলশানে নিজ বাসা ‘ফিরোজা’য়।

বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে এর আগে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া শেখ হলেই বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন। বুধবার দুপুরের মধ্যেই তার মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বাসায় থেকে চিকিৎসা করার সুযোগ দেয়ার কথা বিবেচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন পর্যন্ত সেই ফরমাল সিগনেচারটির অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। এখানে ডুকুমেন্টেশনের ব্যাপার রয়েছে। গভর্নমেন্ট অর্ডারের ব্যাপার রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাইন করার পরে। মুক্তির আদেশে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করলে তা কারাগারে পাঠানো হবে। তারপরই বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন।’

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণার পর সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার বোন সেলিমা ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘গণমাধ্যম থেকে আমরা বিষয়টি জেনেছি। কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সেলিনা ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওনাকে বলেছি, ওনাকে (খালেদা জিয়া) উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যেতে চাই। তার দুহাত বেঁকে গেছে, দাঁড়াতে পারেন না, হাঁটতে পারেন না। বুকে-পিঠে ব্যথা। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে নেই। তিনি এখন মৃত্যুশয্যায়। তাকে মুক্তি দিন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’

এর আগে গতকাল বিকেল ৪টায় গুলশানে নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বেগম জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে তাঁকে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দিতে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী জানান, বেগম জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম- মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১-এর উপধারা ১ ধারা অনুযায়ী বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মানবিক কারণে সরকার তাকে দুই শর্তে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির খবরে প্রস্তুত হচ্ছে গুলশানে তার নিজ বাসভবন ফিরোজা।

বেগম জিয়ার মুক্তির খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা করণীয় চূড়ান্ত করতে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে দেশের মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্থি এনে দিয়েছে। তবে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির বিষয়টা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সেটা আমরা আলোচনা সাপেক্ষে জানতে পারবো।’

সারা দেশে যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে জনমনে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ঠিক এমন সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তাতে করে দেশবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বলে গতকাল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান ফখরুল।

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট- এই দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গেল বছরের এপ্রিলে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে গত প্রায় ১১ মাস ধরে সেখানেই কারা নজরদারিতে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।