যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড ১৪০ জনের মৃত্যু

মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে করোনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫৩ জনে। আক্রান্তের দিক থেকে দেশটি ইতালি ও চীনের পর অর্থাৎ ৩য় অবস্থানে রয়েছে।

এ ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ১৬৮ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে মাত্র ২৯৫ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। দেশটিতে বর্তমানে ৪২ হাজার ৮৮৬ জন আক্রান্ত রয়েছেন।

একদিন আগে রবিবার দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১১১ জন মারা যান এবং নতুন করে আক্রান্ত হন কমপক্ষে ৯ হাজার ৩৫৯ জন।

দেশটির স্বাস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন সোমবার পর্যন্ত ৩ লাখ ১৩ হাজার জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪২ হাজারের বেশি রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। অর্থাৎ ৪২ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত।

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৬৮ জন। এর মধ্যে ইতালিতেই ৬০১ জন।

এ নিয়ে করোনায় সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ৫০৯ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৭৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৩ হাজার ২৩২ জন।

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ হাজার ৩৪০ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮২৯ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ৬৪ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ১৭১ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬৬৫৮ জন।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৬ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৪ জনের অবস্থা সাধারণ। ১২ হাজার ৬৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তারা সবাই আইসিউতে রয়েছেন।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়।

করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।

এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।

উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।