যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড ১১৭ জনের মৃত্যু, ৯ হাজারের বেশি আক্রান্ত

সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড এটি। এ নিয়ে করোনায় মত্যুর সংখ্যা ৪১৯ জন। সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে জনবহুল নিউইয়র্ক।

এছাড়া দেশটিতে একদিনে রেকর্ড ৯ হাজার ৩৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৫৪৬। দেশটি বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যায় চীন ও ইতালির পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৩২ হাজার ৯৪৯ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩২ হাজার ১৫৪ জনের অবস্থা সাধারণ এবং ৭৯৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে দেশটির কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের সিনেটর র‌্যান্ড পলের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই সিনেটর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আরও ৫ সিনেটর কোয়ারেন্টিনে গেছেন।

করোনা প্রতিরোধ ও বিস্তার রোধে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয়ভাবে আরও বেশি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও বেশি মানুষ প্রাণ হারাবেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী শুধু নিউইয়র্কেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দেশটিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছেই।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো এবং নিউইয়র্ক শহরের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও চিকিৎসা সামগ্রীসহ অন্যান্য সেবাসমাগ্রীর অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা পূরণে হোয়াইট হাউসকে আরও বেশি জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মেয়র ব্লাসিও বলেন, ‘যদি প্রেসিডেন্ট সক্রিয় ভূমিকা না নেন, তাহলে যারা বাঁচতে পারতেন তারাও হয়তো মারা যাবেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আমরা যদি আরও ভেন্টিলেটর না পাই তাহলে অনেক মানুষ হয়তো মারা যাবেন, যাদের হয়তো মরতে হতো না।’

গভর্নর কুওমো কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আরও বেশি চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ, প্রতি মিনিট হিসাব করতে হচ্ছে এবং এটা আসলেই জীবন ও মরণের বড় একটা প্রশ্ন।’ রোববার সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন তিনি।

সিএনএন জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত প্রত্যেক পরিবারকে ৩ হাজার ডলার সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৬০৩ জনসহ মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৬১৬ জনের। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬১। চীনের বাইরে মারা গেছে ১১ হাজার ৩৫৫ জন।

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৮০২ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৮ জন। এর মধ্যে ৯৭ হাজার ৬৩৬ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৫৪ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৪ জন।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৮৬ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৪৬ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ১০ হাজার ৬৪০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়।

করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।

এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।

উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯২টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।