এবার নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত ৩ বাংলাদেশি

সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিউইয়র্ক সিটিতে তিন বাংলাদেশিসহ ২৬৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক নারীসহ মারা গেছেন দু’জন। নারীর বয়স ৮২ বছর এবং পুরুষের ৬৫ বছর। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির স্পিকার কার্ল ই হিস্টি রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে জানান, ব্রুকলীন থেকে নির্বাচিত দুই ডেমক্র্যাট- অ্যাসেম্বলির হেলেন উইনস্টাইন (৬৭) এবং চার্লস ব্যারন (৬৯) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে থেকে ব্রুকলীনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক বাংলাদেশি নারীসহ দু’জন। আরেকজন রয়েছেন ম্যানহাটানের হাসপাতালে, তিনি গ্রীণক্যাব চালাতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ওমরা পালন শেষে নিউইয়র্কে ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মধ্যবয়েসী এক বাংলাদেশি। হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। আক্রান্ত নারীর তার স্বামীর সঙ্গে ম্যানহাটানে একটি ফুটকার্টে সহযোগিতা দিতেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ায় নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোও জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজ অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং তুলনামূলকভাবে কম মুসল্লির অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার, ওজনপার্ক, ব্রুকলীনে চার্চ-মাকডোনাল্ড এবং নিউকার্কে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট পাড়ায় আড্ডা একেবারেই থেমে গেছে। খাদ্য-সামগ্রীর দোকান ব্যতীত অন্য সব ধরনের ব্যবসা থমকে দাঁড়িয়েছে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা জানান, তিনি সামগ্রিক পরিস্থিতির ব্যাপারে প্রবাসীদের সঙ্গে যতটা সম্ভব যোগাযোগ রক্ষা করছেন। কনস্যুলার সার্ভিসের জন্য অফিসে না এসে অনলাইন অথবা টেলিফোনে সকলকে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষ জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্যে অবশ্য কন্স্যুলেট অফিস খোলা রাখা হচ্ছে। নিউইয়র্ক স্টেটের শনিবার রাতে ৬১৩ জন আক্রান্ত হবার খবর দিয়েছে স্টেট গভর্নরের অফিস। এদিকে, নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালকরা।

এয়ারপোর্ট, থিয়েটার পাড়া, ট্যুরিস্ট এলাকায় লোকজনের আনাগোনা একেবারেই কমে যাওয়ায় প্যাসেঞ্জার হ্রাস পেয়েছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০%। অনেকে ১২/১৩ ঘণ্টা ট্যাক্সি চালিয়েও গ্যারেজের এবং গ্যাসের অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এদিকে কমিউনিটি লিডার কাজী আজম জানান, তিনি হাসপাতালসমূহে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ানদের অবস্থা জানতে।