মানবজমিনের বিরুদ্ধে মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার চায় অ্যামনেস্টি

মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২০

ঢাকা : দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক ও অন্য ৩১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর অধীনে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি এক বিবৃতিতে বলেছেন, মানবজমিন সম্পাদক ও অন্য ৩১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পরবর্তী আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেছেন, পুলিশ সহ রাষ্ট্রীয় এজেন্সিগুলো এবং প্রভাবশালী মহল জনগণের বিরুদ্ধে কিভাবে খেয়ালখুশি মতো এই আইনটি প্রয়োগ করছে, তার একটি নজির এটি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভিতরে অস্পষ্ট এবং অত্যধিক বিস্তৃত যে বিধানগুলো আছে এবং যে কঠোর শাস্তির বিধান আছে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এসব মত প্রকাশের স্বাধীনতার বৈধ অধিকারকে সীমাবদ্ধ করে।

তিনি আরো বলেছেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই মানহানির বিষয়টিকে অপরাধের আওতামুক্ত করতে হবে এবং আইনের পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে তা ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস সহ মানবাধিকারের আন্তজর্জাতিক আইন অনুসরণ করে চলে। ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এ স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশও।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এই আইনটি পাস করে।
তখন থেকে প্রথম ১১ মাসে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে সাইবার ক্রাইমস ট্রাইবুনালে মামলা হয়েছে প্রায় ৪০০। মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে কমপক্ষে ২০০ মামলা খারিজ করে দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি জরুরি ভিত্তিতে রিভাইজ দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার, যাতে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের আইনের সঙ্গে সঙ্গতি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার, আটক এবং মতামত প্রকাশের বৈধ স্বাধীনতার অধিকারকে খর্ব করে এমন অন্য বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে তা ভারসাম্য রক্ষা করে।

২০১৮ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ‘মাজলিং ডিসেন্ট অনলাইন’ বা অনলাইনে ভিন্ন মতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন শাখার ওপর জোর দেয়া হয়, যেগুলো ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসের মতো আন্তর্জাতিক আইন ও মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এতে বাংলাদেশের প্রতি আইনটি সংশোধন করার অনুরোধ জানানো হয়।