তিন কোটি টাকা আত্মসাতে ২ ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

রবিবার, মার্চ ৮, ২০২০

ঢাকা: যশোরে ঋণ গ্রহীতার স্বাক্ষর জাল করে ঋণের টাকার পরিমাণ বৃদ্ধির পর পৌনে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দুই ব্যাংক কর্মকর্তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন আদালত।

রোববার বিকেলে ইউসিবিএল ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ করার পর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক (জেলা জজ) ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন ইউসিবিএল ব্যাংক যশোর শাখার সাবেক ম্যানেজার ইউসুফ আলী ও খুলনা শাখার বর্তমান অপারেশন ম্যানেজার স্বপন কুমার আইচ।

এ দুজনকে কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি জানিয়েছেন ইউসিবিএল ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খুলনা আঞ্চলিক প্রধান ফকির আক্তারুল আলম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বাবু নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ২০০৯ সালের ১৮ মে এক কোটি ৪৫ লাখ টাকার ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণ নেয়ার সময় মর্টগেজ হিসেবে তার বন্ধু ব্যবসায়িক পার্টনার এই মামলার বাদী এমএ তুহিন ও তার দুই ভাইয়ের ৫৫ দশমিক ৩২ শতাংশ জমি বন্ধক রাখেন।

ছয় মাসের মধ্যে ঋণের টাকা পরিশোধ করে সম্পত্তি দায়মুক্ত করার কথা চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে। কিন্তু আসাদুজ্জামান বাবু সময়মত ঋণের টাকা পরিশোধ না করে ব্যাংকের ম্যানেজার ইউসুফ আলী ও ক্রেডিট ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচের সঙ্গে যোগসাজস করে ঋণগ্রহীতার স্বাক্ষর জাল করেন। জাল করে স্বাক্ষর করা দলিলাদি ব্যবহার করে তিনটি ডিড অব এগ্রিমেন্ট অব ফারদার চার্জ সম্পাদন করে ঋণের টাকার পরিমাণ এক কোটি ৪৫ লাখ টাকার পরিবর্তে চার কোটি ২৫ লাখ টাকায় উন্নীত করেন।

বর্ধিত টাকাগুলো ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে তারা আত্মসাৎ করেন। কিন্তু ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মর্টগেজ দাতাদের কাছে চিঠি পাঠানোর পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর মর্টগেজ দাতা এমএ তুহিন বাদী হয়ে আসাদুজ্জামান বাবু, ওই দুই ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের অক্টোবরে আদালতে মামলা করেন।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর মামলাটি ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকলেও রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।