আশা-নিরাশার দোলাচলে শেয়ারবাজার

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

ঢাকা: দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে মন্দাভাব চলে আসছে। বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। মাঝে ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সংবাদে বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান ঘটলেও নতুন করে কোনো ফান্ড আসেনি। বিশেষ তহবিল ঘোষণার পর ৫ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ৩৮৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। আবার গত ৫ কার্যদিবস ধরে চলছে টানা দরপতন। এ সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৩৭ পয়েন্ট কমেছে।

গতকাল একদিনেই ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৭২ পয়েন্ট। এমন উত্থান পতনের অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। লেনদেনের গতি বৃদ্ধি আর সূচকের উত্থানে বিনিয়োগকারীর নতুন স্বপ্ন বোনার আগেই তা ভেঙে যাচ্ছে হুট করে। দুর্দিন কাটিয়ে পুঁজিবাজারে সুদিন ফেরার আভাস দিলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বাড়ছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দরপতনের যৌক্তিক কোনো কারণ দেখছি না। ব্যাংকের ফান্ড দেওয়ার কথা, নতুন নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার ঘোষণার মধ্যে দরপতনের কোনো কারণ নেই। তবে বিষয়টি অনুসন্ধানের পরামর্শ দেন। কেউ কোনো ধরনের কারসাজি করছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, বাজার ভালো করতে হলে ‘বাই ব্যাক আইন’ কার্যকর করতে হবে। কোনো কোম্পানির শেয়ার ইস্যু মূল্যের নিচে নামলে সেই শেয়ার কোম্পানির পরিচালকদের কিনে নিতে হবে। এ আইন কার্যকর করতে পারলে বাজার অবশ্যই ভালো হবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল বুধবার লেনদেনের শুরুতেই সূচকে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ফলে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৫৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫১৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সবকটি মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৬টির। আর ৪৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬২৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৬২৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে গ্রামীণফোনের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ১৫ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভিএফএস থ্রেড ডাইং।

এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে-ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল পলিমার, আরডি ফুডস, লাফার্জহোলসিম, ওরিয়ন ইনফিউশন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল এবং গোল্ডেন হার্ভেস্ট।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই ২০৭ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৯৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪০টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।