সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ: উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ১৪৪ ধারা জারি

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ১৪৪ ধারা জারি ও সেখানে সব ধরণের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগাম সতর্কতা স্বরূপ দিল্লি সরকার উত্তর-পূর্ব দিল্লি জেলায় সমস্ত বেসরকারি এবং সরকারি স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি মেট্রো জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, গোকুলপুরী, জোহরি এনক্লেভ এবং শিববিহার স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভিসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম খবরে প্রকাশ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

পরিস্থিতি নিয়ে তিনি টুইট করেন, ‘দিল্লির কয়েকটি অঞ্চলের বর্তমান থমথমে পরিস্থিতি নিয়ে আমি খুব উদ্বিগ্ন। শহরে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্যে আমাদের সবারই একসঙ্গে চেষ্টা করা উচিত। আমি আরও একবার সকলের প্রতি আবেদন করছি, দয়া করে হিংসা ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।’

মৌজপুরে, মঙ্গলবার সকালে একটি ই-রিকশায় চলা যাত্রীদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের মূল্যবান জিনিসপত্রও লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।

আমরা উত্তর-পূর্ব দিল্লি থেকে ক্রমাগত সহিংসতার খবর পাচ্ছি।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যে দিল্লির মন্ত্রী গোপাল রাই, ইমরান হুসেন এবং আম আদমি পার্টির অন্যান্য বিধায়করা গভীর রাতে লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজালের বাসভবনে যান। বৈজাল বলেন যে তিনি ‘দিল্লী পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় করণীয় সমস্ত কিছুর বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন।’

এদিকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় বিক্ষোভ চলছে। চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে। পাথর ছোঁড়া, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, এবং দোকানে দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা। সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে রতন লাল নামে এক পুলিশ সদস্যসহ ৬ সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হেড কনস্টেবল রতনলাল, শাহিদ, মহম্মদ ফুরকান, রাহুল সোলাঙ্কি এবং নাজিম। বাকি দু’জনকে শনাক্ত করা যায়নি।

জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালীন দমকলের ইঞ্জিনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে আহত হন ৩ দমকলকর্মী। সেই ঘটনার রেশ এখনও রয়েছে সেখানে, মঙ্গলবারও উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে উত্তেজনা বজায় রয়েছে, চলছে অবাধে লুটপাট।
এদিকে সোমবার বিকালে স্বস্ত্রীক ভারত সফরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ভারতের মাটি পা দেয়ার আগে থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সরকারি একটি সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকাকালীন যাতে এই ধরনের ঘটনা ঘটে, সেটা পরিকল্পনা মাফিকই করা হয়েছে। যদিও আরও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে এই ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন এক পদস্থ অফিসার।