দিল্লি রণক্ষেত্র: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ভয়াবহ সহিংসতায় পুলিশের এক হেড কনস্টেবলসহ সাতজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন বেসামরিক। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০৫ জন।

আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভারতের ব্রহ্মপুরি ও মৌজপুর এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) গোলযোগপূর্ণ এলাকায় ফ্ল্যাগমার্চ করেছে।

এর আগে গতকাল দিনভর এবং রাতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে এবং বিপক্ষে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ইটের আঘাতে পুলিশ কনস্টেবল রতন লাল ও গুলিবিদ্ধ হয়ে মুহাম্মাদ ফুরকান নামে এক বেসামরিক ব্যক্তির কথা জানা গেছে।

এসময় উভয়পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, এবং দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লির বিভিন্ন এলাকা। যার ফলে এদিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আধা সামরিক বাহিনীকে মাঠে নামাতে হয় এবং গোলযোগপূর্ণ এলাকায় সমাবেশ উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

উত্তর-পূর্ব দিল্লি অঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফসহ মোট আট কোম্পানি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে দুই কোম্পানি র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) ও এক কোম্পানি নারী নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান রয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ‘সিএএ’-এর প্রতিবাদে দিল্লির শাহীনবাগ এলাকায় কয়েকশ মুসলিম নারী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তা নিয়ে পুলিশকে হুমকি দিয়েছিলেন দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। তিন দিনের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের না হঠালে তাঁরাও পাল্টা রাস্তায় নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার দুপুরে দিল্লির গোকুলপুরি, ভজনপুরা এলাকায় বিক্ষোভ হয়। এ সময় ‘সিএএ’-এর সমর্থনে একদল মানুষ সেখানে এসে হাজির হয়। এতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সড়কের উপরেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দিনভর সহিংসতার পরে রাতে দিল্লির উত্তর-পূর্ব জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থা ছিল ভীতিকর। এ সময় তাণ্ডবকারীরা দোকানের শাটার ভেঙে জিনিসপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীরা গণমাধ্যম তো দূরের কথা, এমনকি সাধারণ মানুষকেও মোবাইল থেকে কোন কিছু রেকর্ড করতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, তারা আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

গণমাধ্যমের একটি সূত্র বলছে, সহিংসতার জেরে রোববার বিকেল থেকে জাফরাবাদ অঞ্চলের বহু মুসলিম পরিবার ঘরে তালা ঝুলিয়ে মহল্লা ছেড়েছেন।