খুলনায় আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

খুলনা : নড়াইলের লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা বদর খন্দকারকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

নিহত বদর খন্দকার লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নির্বাহী সদস্য। তার পরিবারের ধারণা, গ্রামে আধিপত্য বিস্তরের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে লোহাগড়া-নড়াইল সড়কের টি-চরকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বদরকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদর খন্দকার মোটরসাইকেলে করে তার ইটভাটা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। টি- চরকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চারজন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকেন।

এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে সটকে পড়েন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমনা খানম বলেন, ধারালো অস্ত্রের কোপে ওই ব্যক্তির বাম হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ডান হাতের কবজি ও দুই পায়েই হাঁটুর নিচ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে অচেতন অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো দা, মুঠোফোন, একটি খালি কালো ব্যাগ ও দুটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
বদর খন্দকারের স্বজনরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বদর খন্দকারের বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে ওই বিরোধের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।