সরকারের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছি না: খসরু

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

ঢাকা : সরকারের ভয়ের কারণে আমরা প্রতিবাদ করতে পারছি না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে বলেন, রাজনৈতিকভাবে বলেন, যেখানেই যাবেন নেত্রী কবে মুক্তি পাবেন এই কথাটার সম্মুখীন আমাদের দৈনন্দিন হতে হচ্ছে। দেশনেত্রী মুক্তি আজকে বড় ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি একথা বলেন।

খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের জামিন হবে কি হবে না সেটা আলোচনার বিষয় হতে পারে না। এটা দেশের বিদ্যমান আইন হিসেবে উনার জামিন হওয়ার কথা। সেটাও বাদ দিলাম, উনার যে বয়স, উনার যে স্বাস্থ্য, যে অবস্থায় উনি আছেন, মৃ’ত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সে কারণেও জামিন দেওয়ার কথা। এটাও দেশের আইন। কিন্তু সেখানেও উনার জামিন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আজকে সরকারের ভয়ের কারণে আমাদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। এই ভয় কে ভয় হিসেবে মেনে নেয়ার কারণে শক্তিশালী অবস্থানে থেকেও প্রতিবাদ করতে পারছি না। আমদের ভয় কে জয় করতে হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন শুধু নয়, তাদের (সরকার) মধ্যে যে ভয় কাজ করছে, সেই ভয়ের কারণে খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না। তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় দেশের বাইরে থাকতে হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের ভয়-ভীতির প্রতিফলন ঘটছে।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, সরকারে প্রথম পদক্ষেপ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া। এরপর তাকে যদি ক্ষমতায় থাকতে হয় জনগনের একটার পর একটা অধিকার কেড়ে নিতেই হবে। এটাই নিয়ম। ক্ষমতায় থাকতে হলে তাদের অব্যাহতভাবে এ কাজ গুলো করতে হবে এবং দিনের পর দিন এ কাজ গুলো খারাপের দিকে যাবে। সেটায় তারা করছে। তারা আপনাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে বিএনপির ভোটাধিকার কেড়ে নেয়নি।

খসরু বলেন,আজকে খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হয়েছে তাদের ভয়ের কারণে। কারণ তিনি বাহিরে থাকলে তাদের বিপদ। কারণ রাজনীতিকভাবে তাদের পরাজিত হতে হবে। ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমানের সাথে সমমান রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের তরুন জেনারেশনের মধ্যে নাই। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পরিবারেও নাই। সুতরাং মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশের বাহিরে রাখতে হবে তাকে। এখানেই শেষ নয় তাদের ভয়ভীতির কারণে গুম করতে হয় খুন করতে হয়, মিথ্যা মায়ামলা দিতে হয় এবং রাষ্ট্রের যে প্রতিষ্ঠান গুলোকে ক্ষমতায় থাকার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে হয়।

ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. মাইনুল ইসলাম, মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, সাবেক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নেত্রী আরিফা সুলতানা প্রমুখ বক্তৃতা করেন।