সময় সমাগত, বাঙালি এবার স্বৈরাচার বিদায় করবে: হাফিজ

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

ঢাকা : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ ব‌লে‌ছেন, ‘আজকে যেমন চতুর্দিকে কবরের ন্যায় নীরব, শান্ত পরিস্থিতি এরকম থাকবে না। বাঙালি কোনও স্বৈরাচারকে সহ্য করেনি। ব্রিটিশদের বিদায় করেছে, পাকিস্তানিদের বিদায় করেছে, এবার বাঙালি স্বৈরাচারকে বিদায় করবে, সেই সময় সমাগত।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণকে আমরা আহ্বান জানাবো, আপনারা রাজনৈতিক দলের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন কায়েম করা প্রত্যেক নাগরিকের অবশ্যই কর্তব্য।’

শ‌নিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের সাম‌নে জাতীয়তাবাদী মু‌ক্তিযু‌দ্ধ প্রজন্মের উদ্যো‌গে আপসহীন নেত্রী বেগম খা‌লেদা জিয়ার নিঃশর্ত মু‌ক্তির দা‌বি‌তে এক মানববন্ধ‌নে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

হাফিজ ব‌লেন, ‘এখন সারা দেশে দুই নম্বরের জয়ধ্বনি চলছে। এখন বিএনপি কয় নম্বর দল হবে সেটা তাদের নিজেদের নির্ধারণ করতে হবে। আমরা ৩০ বছর যাবত আমাদের প্রিয় দল করছি। আজ সেই দলের নেত্রী দুই বছরের অধিক সময় ধরে কারাগারে। আমরা নীরবে চুপচাপ করে বসে আছি। কই, রাজপথে তো এর কোনও সংগ্রামী প্রতিবাদী বার্তা আমরা দেখতে পাইনি!’

মেজর (অব.) হাফিজ আরও বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুদিন আগে খোদ ঢাকা শহরে ভোট ডাকাতি হয়ে গেল। এখানে এত লোক উপস্থিত, অথচ কেউ ভোট দিতে পারেননি। সাধারণ জনগণ ভোটকেন্দ্রে যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আজ অর্থনীতি বিপর্যস্ত। ব্যাংকসমূহ লুটপাট হয়ে গেছে। সর্বশেষ লুটপা‌টের ভাগ নিচ্ছে খোদ সরকার। অদূর ভবিষ্যতে সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যাংকসমূহ দেউলিয়ার পথে অগ্রগামী হচ্ছে। কেন স্বাধীন দেশে এ অবস্থা হলো? আজকে এই ভাষার মাসে দাঁড়িয়ে আমরা কি শুধু অশ্রু বিসর্জন করবো? গণতন্ত্র নে, সেজন্য শুধু দুঃখ প্রকাশ করবো? নাগরিক হিসেবে আমাদের কি কিছুই করার নেই?’

তিনি বলেন, ‘আজকে বড় বড় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা কচুরিপানা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কচুরিপানায় নাকি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- ‘আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র যারা আমাদের সবকিছু নিয়ে নিয়েছেন, তাদের দেওয়ার মতো আমাদের কাছে অবশিষ্ট আর কিছু নেই।’ পদে পদে তাদের আধিপত্যের মুখে আমরা। তাদের সাথে নাকি আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রধানমন্ত্রীত্বের স্বপ্নে বিভোর তখন সাধারণ মানুষ সৈনিকদের নেতৃত্বে রাজপথে নেমেছিল। গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের শুভসূচনা করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। আবার সময় এসেছে, আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করার। এই মুক্তিযুদ্ধে জাতীয়তাবাদী শক্তি ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করবে। বিএনপি এবং অন্যান্য সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আহ্বান জানাবো- যদি দেশনেত্রীর মুক্তি চান, গণতন্ত্রের মুক্তি চান আপনারা স্ব-স্ব উদ্যোগে রাজপথে নেমে আসুন।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার একটি দুর্বল সরকার। তারা ইতোমধ্যে বলে দিয়েছে, ব্যাংকসমূহ দেউলিয়া হয়ে যাবে। মানুষকে কচুরিপানা খেতে হবে। তারা বলে দিয়েছে, এ দেশে আর জনগণের ভোট দেয়ার প্রয়োজন নেই। তারা কৌশলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। আশা করেছিলাম, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে বিএনপি রাজপথে নামবে। দু’জন সম্ভাবনাময় তরুণকে আমরা নামিয়েছিলাম ভোটের মাঠে। তারা প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রশাসনের দাপটের জন্য জনগণ ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেনি।’

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি গণতন্ত্র চান যদি সিকিমের অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চান যদি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চান তবে সব বাধাকে উপেক্ষা করতে হবে। রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে এবং এর মাধ্যমেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে।’

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি কালাম ফয়েজীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সাদস্য বিলকিস ইসলাম, কৃষক দলের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আ‌নোয়ার ও কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।