পাকিস্তানে রহস্যজনক কারণে ১৪ জনের মৃত্যু, অসুস্থ ৫০০

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর করাচিতে রহস্যজনক কারণে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত আরো ৫০০ মানুষ। তবে ঠিক কী কারণে এমনটা হচ্ছে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা কারণ সম্পর্কে সাংঘর্ষিক মন্তব্য দিচ্ছেন। এ খবর দিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

খবরে বলা হয়, করাচিতে বিষে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কয়েক শ’ মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে বুকে ব্যথা, শ্বাস গ্রহণে সমস্যা ও চোখ জ্বালা-পোড়া করার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত রোববার করাচির প্রধান বন্দরের নিকটে অবস্থিত শহরতলী কেয়ামারিতে হওয়া এক গ্যাস লিকই এসব মৃত্যু ও আক্রান্তের কারণ। এতে আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে কয়েক জায়গায়। এখন পর্যন্ত অসুস্থের সংখ্যা অন্তত ৫০০ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কেয়ামারিতে স্কুল ও কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্দরের নিকটে একটি টার্মিনালে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রেখেছে।

এদিকে, অন্য কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি বন্দর থেকে সয়াবিন নামানোর সময় ছড়িয়ে পড়া ধুলায় অ্যালার্জির কারণেও এই রহস্যজনক মৃত্যু ও অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সিন্ধু প্রদেশের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি জানিয়েছে, তাদের সন্দেহ, বন্দরের তেল স্থাপনা থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস নির্গমন হয়েছে। এ গ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় এতে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। কিন্তু প্রদেশটির রাসায়নিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগার ও করাচি পোর্ট ট্রাস্ট মিথাইল ব্রোমাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলেছে। এ বিষাক্ত পদার্থটি বন্দরে বড় ধরনের যান থেকে পোকা-মাকড় সরাতে কীটনাশকের মতো ব্যবহৃত হয়।

করাচি পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জামিল আখতার স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই সমস্যার উৎপত্তি বন্দর থেকে হয়নি। বন্দরের সকল টার্মিনাল ও ঘাট নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।

পাকিস্তানের সামুদ্রিক বিষয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আলি হায়দার জাইদি সোমবার এক টুইটে জানান, এ ঘটনায় বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। তিনি লিখেন, আমি পুরো বন্দরটি ঘুরে দেখেছি। সেখানে বরাবরের মতোই কাজকর্ম চলছে। জাহাজ নোঙর করা হচ্ছে, কার্গো খালি হচ্ছে, ভরা হচ্ছে।

তবে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সমস্যাটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাংঘর্ষিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তারা। আসল ঘটনা চাপা দেয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে।