ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সরকার হচ্ছে বর্তমান সরকার: আলাল

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

ঢাকা: আওয়ামী লীগের মনোনয়নের সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগে অনেক সিনিয়র নেতা থাকা সত্ত্বেও উত্তরে একজন ব্যবসায়ীকে এনে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। আরেক জন ব্যবসায়ী ধরে এনে ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। মোজাফফর হোসেন পল্টুর মতো ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগার ঢাকায় রয়েছে। মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ৯০-এর গণআন্দোলনের অন্যতম সৈনিক। তার মতো নেতৃত্ব যেখানে রয়েছে, ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি করে আসা জাহাঙ্গীর কবির নানকদের মতো নেতৃত্ব যেখানে রয়েছে, সেখানে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ সেই সিরাজউদ্দৌলার কাহিনী- কাশিমবাজার কুঠিতে গিয়ে যখন সিরাজউদ্দৌলা হাতেনাতে ধরলেন, সবাইকে ধমকালেন, সবাইকে শাসন করলেন কিন্তু জগৎ সেনের কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, জগৎ সিং-কে আমি কিছু বলব না। কারণ টাকা আমারও দরকার।’

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আয়োজিত একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভাষা নিয়ে যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘ইংরেজি ভাষা, বাংলা ভাষা, উর্দু ভাষা সকল ভাষারই ১৩টা বাজিয়ে ফেলছে এই সরকার। আজকের এই মাতৃভাষা দিবসের দাঁড়িয়ে নিন্দা বা ধিক্কার জানানোর জন্য কোন ভাষার চয়ন করব সেটা চিন্তা করতে হয়।’

ইংরেজি ও উর্দু ভাষার ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় সাবেক অর্থমন্ত্রী কি বলতো? রাবিশ!, বকাশ!। তারপরে ছাত্রলীগকে বলল অর্গানাইজেশন অফ বাসকার্ট। তিনি তো কথায় কথায় প্রায়ই এমন বলতেন। আর প্রধানমন্ত্রী বলতো পেয়ারে পাকিস্তান। জাতীয় সংসদে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তিনি বলেন, এটা হচ্ছে উর্দু।’

বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কথায় তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যখন আকাশ পথে উড়োজাহাজে যায় তখন কুড়িল ফ্লাইওভারকে দেখলে মনে হয় আমি প্যারিস শহরের উপর দিয়ে যাচ্ছি। আর যখন হাতিরঝিলের উপর দিয়ে যায় তখন মনে হচ্ছে আমি লস এঞ্জেলস এর উপর দিয়ে যাচ্ছি, এই হল বাংলার ব্যবহার।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনায় আলাল আরও বলেন, ‘ভাষা, কৃষ্টি-কালচার ও রাজনীতি-সবদিক থেকে সবচাইতে নিকৃষ্ট রাজনৈতিক দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম সরকার হচ্ছে এই বর্তমান সরকার।’

তিনি বলেন, ‘আজকে এই সরকার সব কিছুকে বিসর্জন দিয়েছেন। দেশের ঐতিহ্য, দেশের স্বাধীনতা, ভাষা দিবসের মহত্ত্ব, তাৎপর্য, গণতন্ত্র ও শহীদদের আত্মত্যাগ সব কিছুকে বিসর্জন দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সেটাকে হালাল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই হালাল করার চেষ্টাকে প্রতিহত করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য নিজেকে যতটা নিয়োজিত করতে পারব, তার মধ্যে এই মহান মাতৃভাষা দিবসের মূল তাৎপর্য খুঁজে পাব।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, , যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, মহিলা দল সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।