৮ দফা দাবিতে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের অনশন

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার সহ ৮ দফা দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে রিটেক ফি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে অনেক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া যারা অসামঞ্জস্যতা নিয়ে কথা বলছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে বারেবারে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ডিসিপ্লিন কমিটির সুপারিশে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে ছয় শিক্ষার্থীকে। তাদের মধ্যে অনশনরত আজীবন বহিস্কৃত শিক্ষার্থী অন্তর দে শুভ জানান, জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কে ধ্বংস করার নীল নকশা এঁকেছে এই স্বৈরাচারী ভিসি আনোয়ার হোসেন, আমরা যতবারই প্রতিবাদ করতে গিয়েছি ততবারই আমাদের বহিষ্কার হতে হয়েছে, তবে আজ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তাই আমরা শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে বসেছি।

অনশন কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা যে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছে তার বেশিরভাগই অনেক আগেই মেনে নেয়া হয়েছে, রিটেক ফি ৭৫ শতাংশ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে, প্রায় প্রত্যেকটা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে আমাদের গ্রাজুয়েটরা রয়েছেন। তারপরও যদি তাদের কোন দাবি দাওয়া থাকে, তারা যদি আমাকে জানাই আমি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিব এবং আমি অবশ্যই চাইব আমার শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে আসুক।

দাবিগুলো হলো ১. অনতিবিলম্বে অবৈধ বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে, ২.প্রশাসনের সেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরচারী আচরণ বন্ধ করতে হবে, ৩.ল্যাব রিটেক ও কোর্স রিটেকের জরিমানা বাতিল করতে হবে, ৪.ইম্প্রুভিং সিস্টেম চালু করতে হবে, ৫.ক্লাসে উপস্থিতি (৬০-৭০)% হলে পাচ হাজার টাকা জরিমানা এবং (৫০-৬০)% হলে দশ হাজার টাকা জরিমানা বানিজ্য বন্ধ করতে হবে, ৬. রিটেক কোর্সের সিজিপিএ ৪ কাউন্ট করতে হবে, ৭. চাকুরীর নিয়োগের ক্ষেত্রে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, ৮. ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে যে অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতা হয়েছে তার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

অনশনরত শিক্ষার্থী হলেন, ফিসারীজ এন্ড মেরীন বায়ো সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমে আজম শুভ, একই বিভাগের মাহমুদুল হাসান সাকিব, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রিড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তর দে শুভ, একই বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না দোলা, পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী।