মুসলিমদের সঙ্গে ভারতের ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’, এবার মুখ খুললো জাতিসংঘ

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে দেশটির সরকারের বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

একইসঙ্গে তিনি ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের কারণে দেশটির অন্তত ২০ লাখ মুসলিম রাষ্ট্রহীন ও উদ্বাস্তু হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছেন বলেও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তান সফররত গুতেরেস দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য ডন’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাষ্ট্রের উচিত তার সব নাগরিককে সমান চোখে দেখা। কারও প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করা রীতিমতো অন্যায়। ভারতে মুসলিমদের প্রতি দেশটির সরকারের মনোভাবে আমরা উদ্বিগ্ন।’

এসময় জাতিসংঘ মহাসচিব ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে মুসলিমদের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমসহ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইচ ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কাশ্মিরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘একবার দেখুন- আজ কী হচ্ছে কাশ্মিরে। সেখানে নির্বিচারে মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন করা হচ্ছে। সেখানে মুসলিম নারী-শিশুরা সেনা সদস্যদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। সব বয়সী কাশ্মিরি মুসলিমদের বিনাকারণে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে। কাশ্মিরের মুসলিম নেতৃবৃন্দকে কোনও কারণ ছাড়াই মাসের পর মাস গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে।’

সাক্ষাৎকার প্রদানের সময় দ্য ডনের সাংবাদিকরা জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে জানতে চান- এত কিছুর পরও জাতিসংঘ এখনও পর্যন্ত কাশ্মিরে কেন শক্তিশালী কোনও পর্যবেক্ষক দল পাঠানো না?

উত্তরে গুতেরেস বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরিভাবেই জাতিসংঘের পরিচালনা কমিটি ও নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে সন্দেহ নেই যে, কাশ্মিরে মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যম ও মানবাধিককার সংস্থাগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য।’