ব্রিটিশ এমপিকে ঢুকতে দিলনা ভারত

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রিটিশ এমপি ডেবি আব্রাহামস দিল্লি বিমানবন্দরে নেমেছিলেন। কিন্তু ইমিগ্রেশন পার হয়ে ভারতে ঢুকতে পারেননি তিনি। বিমানবন্দর থেকে তাকে দুবাইগামী উড়োজাহাজে তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। খবর এনডিটিভি।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার দিল্লি বিমানবন্দরে ডেবি আব্রাহামসের সঙ্গে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস আগে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন আব্রাহামস।

কিন্তু আব্রাহামসকে ভারতে প্রবেশ করতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, তার ভিসা যথাযথ ছিল না।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এমন মন্তব্যের পর দিল্লিস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন বলেছে, কেন আব্রাহামসকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হলো না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তারা।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা ডেবি আব্রাহামস বলেছেন, তার সঙ্গে ‘আসামিদের’ মতো আচরণ করা হয়েছে।

পরে এক বিবৃতিতে আব্রাহামস বলেছেন, ‘সোমবার ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে নামি আমি। তখন বিমানবন্দর কর্মকর্তারা আমাকে জানান, তার ই-ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বাকি সবার মতো আমিও আমার ই-ভিসা ইমিগ্রেশন ডেস্কে দেখাই এবং ছবি তুলি। তখন ওই কর্মকর্তা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝোঁকাতে থাকেন। আমাকে তিনি বললেন, আপনার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হলো। এরপর আমার পাসপোর্ট নিয়ে মিনিট দশেকের জন্য উধাও হয়ে যান। যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন তিনি খুবই কঠোর আচরণ করছিলেন। চিৎকার করে বললেন, আমার সঙ্গে আসুন। আমি তাকে আমার সঙ্গে এমন আচরণ করতে বারণ করি।’

এরপর আব্রাহামস তার এক আত্মীয়কে ফোন দেন এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনেও ফোন দেন। তিনি ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসার আবেদন করলে সেটিও প্রত্যাখ্যান করা হয়। এরপর ভারতে প্রবেশ করতে না দিয়ে তাকে বিমানবন্দর থেকে জোর করে দুবাইগামী বিমানে তুলে দেওয়া হয়। আব্রাহামস বলছেন, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের আচরণ এমন ছিল, যেন তিনি আসামি।

এ ঘটনার সঙ্গে তার কাশ্মীর সংক্রান্ত সমালোচনার যোগসূত্র থাকতে পারে, এমন আঁচ পাচ্ছেন আব্রাহামস নিজেও। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সবার জন্য মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্যই আমি সংসদ সদস্য হয়েছি। অন্যায় দেখলে আমি সমালোচনা করবই, হোক সে আমার সরকার কিংবা অন্য কোনও সরকার।’

গত বছরের ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারতীয় সরকার। এরপর ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একটি চিঠি লিখেছিলেন আব্রাহামস। এ ছাড়া তার টুইটার অ্যাকাউন্টেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বেশ কিছু পোস্ট রয়েছে।