মার্চেই দেশের গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে ভয়াবহ আশঙ্কা

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

ঢাকা : দেশের রফতানি বাণিজ্যের প্রধান খাত গার্মেন্টস শিল্প, একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির প্রধানতম চালিকা শক্তি। দেশের বৃহত্তম শ্রমশক্তির এই খাতটি এবার বড় ধরনের সংকটের ‍মুখে পড়তে যাচ্ছে। আগামী মার্চেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে বলে আতঙ্কিত এই গার্মেন্টস মালিকরা।

এই বিপর্যয়ের কারণ- করোনা ভাইরাস। চীনের করোনা ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের কারণে ইতোমধ্যে বেশকিছুটা সংকটের মধ্যে পড়েছে। আর করোনা ভাইরাসের আরেপা বিস্তার বা এ সংকট দীর্ঘয়িত হলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র আশঙ্কা, বাংলাদেশের সাড়ে ৪ হাজারের বেশি গার্মেন্টসের অধিকাংশই চীনের কাঁচামাল ও কাপড়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ওপরে নির্ভরশীল। বর্তমানে চীন থেকে কাঁচামাল ও অন্যান্য দ্রব্যাদি আসা বন্ধ রয়েছে। গত ২০ দিনে চীন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোন জাহাজ বাংলাদেশে আসেনি। ফলে কাঁচামালের স্টক বা মওজুদ একেবারেই তলানীতে পৌঁছেছে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে পণ্যবাহী জাহাজ আসা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে চীন থেকে সরাসরি ১৫টি জাহাজ এলেও চলতি মাসে এসেছে মাত্র ২টি জাহাজ। কমেছে চীন থেকে কন্টেইনার আসার পরিমাণও। একই সঙ্গে ঝুঁকি এড়াতে চীন থেকে আসা জাহাজগুলোকে যাত্রা শুরু থেকে ১৪ দিন অতিবাহিত না হলে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়ীদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে পণ্য নিয়ে চীন থেকে যে দুইটি জাহাজ এসেছে সেগুলো মূলত ডিসেম্বর বা তার আগে ঋণপত্র খোলা হয়েছিলো। প্রথমে চীনা নববর্ষ ও পরে করোনা ভাইরাসের কারণে জানুয়ারি থেকে ঋণপত্র খোলা এক প্রকার বন্ধ।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এস এস আবু তৈয়ব বলেন, চীন থেকে আমদানি-রফতারি এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে মার্চ মাসের পর থেকে দেশের ৮০ শতাংশ গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ বাংলাদেশের প্রায় সব কাঁচামালই চীন থেকে আসে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খান বলেন, ‘চীন থেকে মোট এক্সেসরিজের ৪০ বা ৫০ শতাংশ আমদানি করা হয়। তবে আমাদের যে চাহিদা রয়েছে এতো অল্প সময়ে কাছাকাছি দেশ ভারতসহ অন্য কেউ এই সাপোর্ট দিতে পারবে না। তবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি যদি চীনের কারখানাগুলো খুলে যায় তাহলে আমাদের চাহিদা পূরণে সময় লাগবে না।’