বাসে ৫ সন্তানের জননীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

গাজীপুর: গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে এক গৃহবধূকে (৩৫) দলবেঁধে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী পাঁচ সন্তানের জননী বলে জানা গেছে।
গত বুধবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া পেয়ারাবাগান এলাকায় ঢাকা বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার এজাহারভুক্ত তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার যুবকরা হলেন– শেরপুরের নকলা থানার ধনাকুশ গ্রামের ওমর আলীর ছেলে বাসচালক আমীর হোসেন (২৭), একই জেলা ও থানার ইশিবপুর এলাকার সুশীল চন্দ্র শীলের ছেলে বাস কন্ডাক্টর অমিত শীল (২২) ও ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ঠাকুরবাহাই এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে বাস হেলপার মো. মোজাম্মেল (২৩)।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নন্দলাল চৌধুরী জানান, বুধবার রাতে এক নারী গাজীপুর মহনগরীর টঙ্গী থেকে গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বারবাড়ি এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান।
বেড়ানো শেষে তিনি রাতেই অপর এক নারীসহ টঙ্গী যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় মেম্বারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড হতে ইছামতি পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন।
একপর্যায়ে বাসটি গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় পৌঁছানোর পর বাসে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে দেয় চালক ও সহকারীরা।
তখন বাসে ওই দুই নারীসহ ৪-৫ জন যাত্রী ছিলেন। চালক বাসটি নিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা হতে ভোগড়া বাইপাস মোড় পৌঁছার পর দুই নারী ছাড়া বাস থেকে অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয় চালকের সহকারীরা।
পরে ওই দুই নারী বাস থেকে নামার চেষ্টা করলে বাসচালকের সহযোগীরা তাদের ধাক্কা দিয়া বাসের ভেতরে ঢুকিয়ে দ্রুতগতিতে পশ্চিমে ভোগড়া পেয়ারাবাগানের দিকে চলে যায়।
পরে ধর্ষকরা রাত পৌনে ১২টার দিকে ভোগড়া এলাকার গরুকাটা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে একপর্যায়ে বাসের দরজা বন্ধ করে দেয় বাসের সহকারীরা। এ সময় দুই নারী চিৎকারের চেষ্টা করলে ওই দুই গৃহবধূকে হত্যার ভয় দেখিয়ে বাসের পেছনে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
রাত ১২টার দিকে ওই যুবকরা এক নারীকে (৩৫) বাসের ভেতরে দুই সিটের মাঝে গামছা দিয়ে তার দুই পা সিটের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। পরে বাসচালক, কন্ডাক্টর ও হেলপার এবং অজ্ঞাত আরও এক ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করে।
বৃহস্পতিবার ভোরে তারা বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। পরে দুই নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদের বাস থেকে উদ্ধার করে বাসন থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বাসটি জব্দ করে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার অপর নারী (৫০) বাসন থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দিনই মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করে।
শনিবার তিন ধর্ষক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।