নির্বাচন নিয়ে পঞ্চ ‘নি’ তত্ত্ব প্রকাশ ইসি মাহবুবের

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

ঢাকা : নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বারবার নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়ে আলোচনায় থাকা নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার এবার অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য পঞ্চ ‘নি’ তত্ত্ব প্রকাশ করলেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তত্ত্ব প্রকাশ করেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আমি পাঁচটি ‘নি’ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, প্রথম ‘নি’ হচ্ছে– ‘নিশ্চয়তা’; এটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা। এ নিশ্চয়তার অর্থ– ভোটার ও রাজনৈতিক দলের আস্থা সৃষ্টি।

দ্বিতীয় ‘নি’র ব্যাখ্যায় মাহবুব তালুকদার বলেন, নিরপেক্ষতা’- নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান ও ভোট কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি। কমিশনের পক্ষে এই নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।

তৃতীয় ‘নি’ হচ্ছে– ‘নিরাপত্তা’; এই নিরাপত্তা ভোটার, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অংশীজনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে নির্বাচনকালে কমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা দরকার।

চতুর্থ ‘নি’ কে ‘নিয়মনীতি’ বলে ব্যাখ্যা করেন ইসি মাহবুব। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোরভাবে বিধিবিধান পরিচালনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

মাহবুব তালুকদারের ‘নি’ তত্ত্বের পঞ্চমটি হচ্ছে– ‘নিয়ন্ত্রণ’; নির্বাচন অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। স্বনিয়ন্ত্রণই নির্বাচন কমিশনের মূলকথা।

আলোচিত এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নিশ্চয়তা, নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়মনীতি ও নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমরা প্রস্তুতি রয়েছি।

কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ তিন বছর পূর্ণ হলো উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, এই তিন বছরে অনেক অর্জন রয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে রয়েছে বিসর্জন।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, সংবিধান বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে যে অপরিমেয় ক্ষমতা দিয়েছে, পৃথিবীর খুব কম দেশের কমিশন, এমনকি ভারতের নির্বাচন কমিশনও এমন ক্ষমতার অধিকারী নয়।

ইসি সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রি. জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।