করোনা ভাইরাস: চীনে ১৭শ’ স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে চীনে ১ হাজার ৭১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছে।এছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬ স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।রবিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য জানিয়েছেন।খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এএফপি, সিএনএন, আলজাজিরা।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের সহকারী পরিচালক জেং ইজিন জানান, করোনা ভাইরাসে চীনে ১ হাজার ৭১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। যা ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্ত রোগীদের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশে রয়েছেন ১ হাজার ৫০২।

এই কর্মকতা আরও জানান, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এরইমধ্যে ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

এদিকে করোনা ভাইরাসে চীনে গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে ১৪২ জন।এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৬৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।চীনের বাইরে হংকং, ফিলিপাইন, জাপান ও ফ্রান্সে ১ জন করে মোট ১ হাজার ৬৬৯ জন নিহত হয়েছে।

এ ভাইরাসে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৫০০ জন এবং চীনের বাইরে ৭৬৪ জন।সবমিলিয়ে পুরো বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

রবিবার সকালে চায়নার জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, চীনে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৯ জন।এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৬৮ হাজার ৫০০ জন।এর মধ্যে ১১ হাজারের বেশি মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।এছাড়া চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

চীনে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ৭ হাজার ৪৬৫ জন সুস্থ হয়েছে।সুস্থ হওয়ার পর তাদেরকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।রবিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৬৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র পেয়েছে।

হুবেই প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুবেইতে নতুন করে ১ হাজার ৮৪৩ জন আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছে।এ নিয়ে প্রদেশটিতে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৫৯৬ জন, আক্রান্ত হয়েছে ৫৬ হাজার ২২৪৯ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৪২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনই হুবেইতে।

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান, সেখানাকার একটি সামুদ্রিক খাদ্য ও মাংসের বাজার থেকে এই করোনা ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে না যায়, সেজন্য চীন হুবেই প্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।ওই অঞ্চলের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে চীনসহ বাইরের বিশ্ব থেকে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ আক্রান্তের খবর আসছে, তাতে আক্রান্তের আসল খবর জানা যাচ্ছে না।কারণ, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, শুধু তাদের হিসেব পরিসংখ্যানে ধরা হচ্ছে।তাই এর প্রকৃত হিসেব বের করা বা জানা খুবই কঠিন ব্যাপার, যা আরেকটি আশঙ্কার কারণ।

চীনের সবগুলো প্রদেশসহ বিশ্বের ২৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ৭৬৪ জন শনাক্ত করা হয়েছে।এর মধ্যে জাপানেই ৪০৭ জন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই অবস্থায় স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীন ভ্রমণে সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছে অনেক দেশ।ভারত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশ চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভিসা বাতিল করেছে।ভাইরাসের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।চীনে অধিকাংশ বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্সসহ আরও অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে নতুন করে ৭০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।এ নিয়ে অবরুদ্ধ (কোয়ারেন্টাইন) জাহাজটিতে এক কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাসহ আক্রান্ত বেড়ে ৩৫৫ জন হয়েছে।রবিবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাটসুনোবো কাতো জানান, নতুন করে জাহাজের ২শ’র ওপর যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ৭০ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।পর্যায়ক্রমে সকল যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।এছাড়ার জাহাজের যাত্রীসহ জাপানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০৭ জন এবং নিহত ১ জন।

তিনি আরও জানিয়েনে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে আটকে আছে জাহাজটি।এখন পর্যন্ত জাহাজের ৩৫৫ যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।আক্রান্তদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।বাকিদের আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাজেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

‘ডায়মন্ড প্রিন্সেস’ নামের ওই বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজে ২ হাজার ৬৬৬ জন যাত্রী ও ১ হাজার ৪৫ জন ক্রু রয়েছে।সকল যাত্রীদের পরীক্ষা করার জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জাহাজে রয়েছেন।যাত্রীদের জাহাজে নিজ রুমে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ওই হাজাজে পূর্বে ভ্রমণ করা এক যাত্রীর শরীরে ২৫ জানুয়ারি হংকংয়ে করোনা ভাইরাস হলে, জাপান সরকার জাহাজটিকে অবরুদ্ধ করার এ পদক্ষেপ নেয়।এছাড়াও জাহাজে ভ্রমণকারী ৮ যাত্রীর শরীরে জ্বর ছিল, যা করোনা’র একটি আলামত।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাহাজটি জাপানের ইয়োকোহামা উপসাগরে আসে বলে জানান দেশটির সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিদে সুগা।

গত ডিসেম্বরে চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা।এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২৮টি দেশে ৭৬৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

যেসব দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে-

চীন- ৬৮ হাজার ৫০০ জন আক্রান্ত, মারা গেছে ১ হাজার ৬৬৫ জন। যার অধিকাংশই হুবেই প্রদেশের উহানে। হংকং- ৫৭ জন আক্রান্ত, নিহত ১ জন। ফিলিপাইন- ৩ জন আক্রান্ত, নিহত ১ জন।জাপান- ৪০৭ জন আক্রান্ত, নিহত ১ জন।ফ্রান্স- ১১ জন আক্রান্ত, নিহত ১ জন। সিঙ্গাপুর- আক্রান্ত ৭২ জন, থাইল্যান্ড- ৩৩ জন, দক্ষিণ কোরিয়া- ২৮ জন, তাইওয়ান- ১৮ জন, মালয়েশিয়া- ২২ জন, জার্মানি- ১৬ জন, অস্ট্রেলিয়া- ১৫ জন, ভিয়েতনাম- ১৬ জন, যুক্তরাষ্ট্র- ১৫ জন, ম্যাকাও- ১০ জন, যুক্তরাজ্য- ৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত- ৮ জন, কানাডা- ৮ জন, ভারত- ৩ জন, ইটালি- ৩ জন, রাশিয়া- ২ জন, স্পেন- ২ জন, বেলজিয়াম- ১ জন, কম্বোডিয়া- ১ জন, ফিনল্যান্ড- ১ জন, নেপাল- ১ জন, শ্রীলঙ্কা- ১ জন, সুইডেন- ১ জন।