৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অপরাধে ধর্ষকের যাবজ্জীবন

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্কুল ছাত্রীকে অপহরন ও ধর্ষনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ধর্ষককে পৃথক ধারায় যাবজ্জীবন প্লাস কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। অপহরনের দায়ে ১৪ বছর ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর এবং ধর্ষনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের দন্ড দেয়া হয়।

একইসাথে দন্ডিতর জরিমানার টাকা আদায় সাপেক্ষে ভিকটিমকে দেয়ার জন্য কালেক্টরকে আদেশ দেয়া হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার এ দন্ড দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু শামীম আজাদ। রায় ঘোষনার সময় দন্ডিত মোঃ রাব্বি হাওলাদার আদালতে অনুপস্থিত ছিলো। সে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আটহাজার গ্রামের ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে।

ঘটনা ঘটানোর সময় তিনি ভাটিখানা জোড় মসজিদ এলাকায় বসবাস করত। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, ভিকটিমের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার তালতলী এলাকায় হওয়া সত্ত্বেও সে তার নানা বাড়ি মুলাদী উপজেলার প্যাদার হাট এলাকায় থেকে পড়াশোনা করত। ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেনীতে পড়াশোনা অবস্থায় রাব্বির সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল স্কুলের সামনে থেকে ভিকটিমকে অপহরন করে লাকুটিয়া এলাকায় নিয়ে যায় রাব্বি।

সেখানে একটি বাড়ি আটকে রেখে তাকে একাধিক বার ধর্ষন করে। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় ধর্ষন ও অপহরনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থল মুলাদী থানা এলাকায় হওয়ায় মুলাদী থানা পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তে সত্যতা পেয়ে মুলাদী থানার এস আই ইদ্রিস আলী হাওলাদার ২৮ জুন আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষে বিচারক ওই দন্ড দেন। রায়ের সময় আসামী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।