জামিয়ার শিক্ষার্থীদের ওপর ফের পুলিশের হামলা, গোপনাঙ্গেও আঘাত

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের মিছিল আটকাতে সোমবার পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। পরে শিক্ষার্থী-পুলিশ-স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশের বেধড়ক মারে আহত হয়েছেন অনেক বিক্ষোভকারী।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, মিছিলে পুলিশের বাধায় অসুস্থ হয়ে পড়া অনেককে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। যাদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা জনা চল্লিশেক।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘিরে ধরা পুলিশের চাপে দম বন্ধ হয়ে আসছিল তাদের। সঙ্গে পেটে-পিঠে-বুকে-গোপনাঙ্গে চোরাগোপ্তা লাঠি। বাদ যাননি ছাত্রীরাও। এ দিকে পুলিশের দাবি, ব্যারিকেড ডিঙিয়ে এগোতে চাওয়া মিছিলকে বাধা দেওয়া হয়েছে ঠিকই। তা বলে লাঠিপেটা করা হয়নি। এক পুলিশ অফিসারের প্রশ্ন, ‘‘সত্যিই লাঠি চললে, তার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যেত না কি?’’
এখন জামিয়ায় ক্লাস চলছে পুরোদমে। হচ্ছে কিছু পরীক্ষাও। তারই মধ্যে সোমবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) এবং জাতীয় জনগণনা তালিকার (এনপিআর) বিরোধিতায় জামিয়ার ৭ নম্বর গেটের সামনে থেকে ‘সংসদ চলো’র ডাক দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের অনেক প্রতিনিধি এবং বহু স্থানীয় মানুষও। কিন্তু মিছিল শুরুর জায়গা থেকে শ’খানেক মিটার দূরেই ব্যারিকেড করে রেখেছিল দিল্লি পুলিশ।

সেই ব্যারিকেড ডিঙিয়ে মিছিল সামনে দিকে এগোতে চাওয়াতেই পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি বাঁধে। ব্যারিকেডের গার্ড-রেল নিয়ে দু’পক্ষের টানাটানির পরে অনেকে উঠে পড়েন ব্যারিকেডের ওপরে। নাগাড়ে চলতে থাকে স্লোগান।

ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সফুরার অভিযোগ, ‘‘কাউকে খোলাখুলি লাঠিপেটা হয়তো করা হয়নি। কিন্তু সামনের পুলিশেরা যখন প্রতিবাদীদের রুখছিলেন, তখন পেছন থেকে লম্বা লাঠি দিয়ে ক্রমাগত পেটে, পিঠে এমনকি গোপনাঙ্গে খুঁচিয়ে যাচ্ছিলেন পেছনের পুলিশ কর্মীরা। যে কারণে অনেকে গুরুতর চোট পেয়েছেন। তাদের নিয়ে যেতে হয়েছে হাসপাতালে।’’

পুলিশের হাতে আটক হওয়া শাহিন আবদুল্লার দাবি, হাত পিছমোড়া করে মারধর করা হয়েছে। চলেছে লাথি, চড়, ঘুষি। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময়ে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে সংজ্ঞাহীন হয়েও পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে দাবি, এ দিন মিছিলে শিক্ষার্থীদের তুলনায় স্থানীয় মানুষের সংখ্যা ছিল বেশি। ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের বারবার পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে না-জড়ানোর আরজি জানানো হচ্ছিল বলেও জানাচ্ছে তারা।

এ দিকে, জেএনইউ ক্যাম্পাসে মুখ ঢাকা দুর্বৃত্তদের হামলার এক মাস পরেও তদন্তে অগ্রগতি না-হওয়ার অভিযোগ পুলিশের কাছে জানিয়ে এলেন শিক্ষক সংগঠন জেএনইউটিএ-র প্রতিনিধিরা। সোমবার দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরে স্পেশাল সিপি (তদন্ত) প্রবীর রঞ্জনের কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তারা।