মুঠোফোনে প্রেম, টাকা আনতে গিয়ে গণধর্ষণ!

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

ভোলা: প্রথমে চরে, পরে ট্রলারে নিয়ে এক তরুণীকে (২০) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাতে ভোলার চরফ্যাশনে এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল রোববার ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দক্ষিণ আইচা থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি পাঁচ যুবককে আসামি করেন। তার আগে কোস্টগার্ড ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তরুণীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি পাঁচ তরুণকে আটক করে। মামলা হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

আজ রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন, সোহেল রানা ওরফে দিদার (২০), মো. ইউসুফ হাসান সরদার (২১), মো. ওয়াসেল আহমেদ সিকদার (২০), মো. রিপন ফকির ও মো. মোর্শেদ হাওলাদার।

ভুক্তভোগী তরুণী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তিনি ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলায়। সম্প্রতি মুঠোফোনে একই উপজেলার সোহেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার মা অসুস্থ হওয়ায় তিনি গতকাল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। মায়ের চিকিৎসার জন্য তিনি ১৫ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক জানান যে, চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে। এ অবস্থায় তিনি সোহেলের কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। সোহেল টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে দক্ষিণ আইচায় যেতে বলেন।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই তরুণী সেখানে পৌঁছান। সেখান থেকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে স্পিডবোটে তোলেন সোহেল। কিন্তু তাকে একটি চরের বনে নিয়ে গিয়ে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেন। এরপর সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে তাকে একটি ট্রলারে তোলা হয়। ট্রলারে তাকে পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করেন। গভীর রাতে অন্য একটি ট্রলার আসতে দেখে তিনি ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার করেন। পরে ওই ট্রলারে থাকা কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দক্ষিণ আইচা থানার পরিদর্শক মিলন কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, ‘তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’