আহত সময় টিভির চিত্র সাংবাদিককে দেখতে গেলেন ইশরাক

বুধবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত রোববার রাজধানীর গোপীবাগে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের গণসংযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় আহত সময় টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন আশরাফুল ইসলামকে তার মগবাজারের বাসায় দেখতে যান ইশরাক হোসেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি তাকে দেখতে যান।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ওই দিনের ঘটনার বিষয় আপনার যায়গা থেকে কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে ওই দিনের ঘটনাটা গণমাধ্যম সহ সবাই দেখেছেন। সেখানে গণমাধ্যমের কর্মীরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। আমরা আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র পক্ষ থেকে তাদেরকে সান্ত্বনা জানাতে এসেছি।

তিনি বলেন, সময় টিভির যিনি ক্যামেরাম্যান আশরাফুল ইসলামের শারিরীক অবস্থার খোঁজ খবর নিলাম এবং আহত আরেকজন সাংবাদিক নয়া দিগন্তের তৌহিদ সাহেব উনাকেও আমরা দেখেছি। উনিও আহত হয়েছেন গুরুতর আহত। আর সার্বিক পরিস্থিতি হচ্ছে ঐদিন সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে কোন কারন ছাড়াই আমাদের ওপর বড় বড় ইট নিক্ষেপ করা হয়। এটার কোন প্রয়োজন ছিলো না।

ইশরাক বলেন, একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম শেষ দিকে এসে এরকম ঘটনা ঘটানোর দরকার ছিল না। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে আমাদের যারা হতো তাদেরকে উল্টো আসামি করে আবার একটি মামলা করা হয়েছে। ওয়ারী থানার কতিপয় কিছু কর্মকর্তা একেবারে সরকার দলীয় ক্যাডারের ভূমিকা পালন করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমাদের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ও একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ডিবি অফিসে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমাদের ২৫ জন নেতাকর্মীর জামিন হয়েছে আরও যারা আছেন তাদের জামিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ইশরাক বলেন, সবচেয়ে খারাপ লাগে ওভারঅল গত জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রশাসনের যে ভুমিকা আমরা দেখতে পেয়েছি এখন সেটা পাচ্ছি না। তবে কিছু কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা পুরো প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছেন। বিশেষ করে ওয়ারী থানায় যারা আছেন।

পুলিশ বলছে আপনারা মামলা করতে যাননি। আসলেই কি আপনারা মামলা করতে গিয়েছিলেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেদিন থেকেই আমাদের মামলা রেডি কিন্তু সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা হচ্ছে আমরা যখন কোন বাদীকে নিয়ে যাই কোন না কোন ভাবে তারা খবর পেয়ে যাচ্ছে এবং বাদীকে হুমকি দিচ্ছে। ফলে বাদী এসে ভয়ে চলে যাচ্ছে। ছয় বার এরকম হয়েছে।

ছয় বার বাদী গিয়ে সেই কাগজপত্রে সাইন করার সাহস দেখায়নি। ওইখানকার আওয়ামীলীগ সমর্থিত যারা আছেন তারা বাদীকে একদম জীবনের হুমকি দিচ্ছেন। আর যারা আমাদের আহত হয়েছেন তারা তো আহতই। তার উপর তাদেরকে আসামী করে মামলা দেয়া হয়েছে। তাদের আশঙ্কা তারা থানায় মামলা করতে গেলে তাদেরকে সেখানেই আটক করে রাখা হবে।

এমনকি কোর্টে যেয়েও তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। এরকম একটা ভয়ানক পরিস্থিতির মাঝে আমরা রয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের কর্মীদের উপর আগে হামলা করা হয়েছে। আমার এক কর্মীকে তারা বিল্ডিং এর মধ্যে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো। তখন আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আমার সেই সহকর্মীকে রক্ষা করতে আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। গণমাধ্যম কর্মীরা সেটা দেখেছে। সমস্ত ফুটেজে রয়েছে।