অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না: আফগানকে পাকিস্তান

বুধবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে আফগানিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সেদেশে ‘পাশতুন তাহাফোজ মুভমেন্টের’ একজন নেতাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গণির বক্তব্যের সমালোচনা করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চাই কিন্তু আফগান প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি এক টুইটবার্তায় পাকিস্তানের পুলিশের হাতে আটক ‘পাশতুন তাহাফোজ মুভমেন্ট’ নেতা মঞ্জুর আহমদ পাশতিন ও আরো ছয়কর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

এরপরই পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সেদেশের সরকার ও সংবিধানকে অবমাননা করার কারণেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০১৪ সালে পাকিস্তানের পাখতুন’ প্রদেশে ‘পাশতুন তাহাফোজ মুভমেন্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশতুনদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ওই অঞ্চলে বিরাজমান অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ সংগঠন গঠন করা হয়। গত প্রায় এক বছরে পাকিস্তানের ওই প্রদেশে পাশতুনদের এই সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় এদের ওপর সরকারের নজরদারি বেড়েছে। তাদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে।

পাখতুন’ প্রদেশের দক্ষিণে বানু শহরে ‘পাশতুন তাহাফোজ মুভমেন্ট’ এর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে তাদের দাবি দাওয়া বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য গত কয়েক বছর ধরে তারা চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এই আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা তাদের দাবিদাওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে গিয়ে পাকিস্তান সরকারকে নিয়েও কথা বলায় অর্থাৎ সমালোচনা করায় এই সংগঠনের নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বানু শহরে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ‘পাশতুন তাহাফোজ মুভমেন্ট’র নেতা মঞ্জুর আহমদ পাশতিন বলেছিলেন, পাকিস্তানের সরকার ও গোয়েন্দা বাহিনীগুলো পাশতুন জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উপজাতি সশস্ত্র ব্যক্তিদের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে।

এ অবস্থায় পাকিস্তান সরকার এ জন্য চিন্তিত যে ওই এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের তৎপরতা বেড়ে গেলে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে এবং বিশেষ করে বেলুচিস্তানের মতো ওই এলাকায়ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা শুরু হতে পারে। এসব কারণে পাকিস্তান সরকার আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের সমালোচনার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে গ্রেফতারের ঘটনাকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।