রাজধানীতে রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির বিক্ষোভ

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

ঢাকা : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল মহাখালী কাঁচাবাজার থেকে শুরু হয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। এ সময় দলটির অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

মিছিল শেষে এক পথসভায় রিজভী বলেন, ‘দেশে এখন গুনী, সম্মানীয় ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিদের মান-সম্মান ধুলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে। দেশজুড়ে চলছে তুঘলকী শাসন। ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’ এটি তোয়াক্কা না করে বরং এখন দেশে চলছে এক ব্যক্তির চোখ রাঙ্গানীর শাসন।’

বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী যিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ অথচ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। এটা এমন দেশ, যেখানে ভিন্ন মত প্রকাশ করলে প্রধান বিচারপতিও বন্দুকের নলের মুখে পড়ে দেশ ছাড়তে হয়।’

এক মন্ত্রীরা ভাষা অশালীন বলে বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতির একটি রায় আওয়ামী সরকারের বিপক্ষে ছিল বলেই সম্প্রতি একজন মন্ত্রী তাঁকে নিয়ে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। আর তার এই অশালীন বক্তব্যই প্রমাণ হয়েছে, দেশের বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সর্বক্ষেত্রে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চায় সরকার।’

আইনের শাসনের ছিটে-ফোটাও নেই জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই বলেই চারবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রেখেছেন। বিনা ভোটে সরকার ভালভাবেই জানে যে, এবার ক্ষমতা হারালেই জনগণ জুলুম-নির্যাতনের ন্যায্য হিস্যা নিবেন। এই উপলব্ধি থেকেই বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে-যাতে জনগণের ভোট ও নির্বাচনের অধিকার নিয়ে কেউ প্রতিবাদী হতে সাহস না পায়।

বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করতে চায় সরকার এমন দাবি করে রিজভী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতিশীল হচ্ছে। কিন্তু তার প্রতি সরকার প্রধানের নিষ্ঠুর আচরণ থামছেই না। দেশনেত্রীকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের এধরণের অমানবিক আচরণের লক্ষ্য একটাই-তাহলো তাঁকে তিলে তিলে শেষ করা।’

অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি এবং তাঁকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে সুচিকিৎসার সুযোগ দানের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি কারাবন্দী সকল নেতাকর্মীরও নি:শর্ত মুক্তি দাবিও জানান তিনি।