করোনাভাইরাস: বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে উইঘুর ১০ লাখ বন্দি

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উহানের করোনাভাইরাস পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াংয়েও পৌঁছে গেছে। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের নামে এই অঞ্চলটিতে ১০ লাখ উইঘুর মুসলমানকে বন্দি করে রেখেছে চীন সরকার।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় সেখানকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ৪৭ বছর বয়সী লি ও ৫২ বছর বয়সী গিউ নামের দুই ব্যক্তি জিনজিয়াংয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।-খবর বিজনেস ইনসাইডারের

কর্তৃপক্ষ বলছেন, ওই দুই ব্যক্তি হুবাইয়ের রাজধানী উহানে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। গত ১০ জানুয়ারি উহানে প্রথম এই রোগ ধরা পড়েছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও বলছেন, জিনজিয়াংয়ে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদি সেখানে এই রোগের উপদ্রব ঘটে, তবে আটক ১০ লাখ উইঘুর মুসলমান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন। জিনজিয়াংকে পূর্ব তুরকিস্তান নামে ডাকেন উইঘুররা।

তাদের আটকে রাখার এসব ক্যাম্পের পরিবেশ প্রচণ্ড নোংরা। অবকাঠামো ব্যবস্থাও ভালো না। ডিট্নেশন সেন্টারগুলোতে ঠাসাঠাসি করে বন্দি রাখা হয়েছে এসব মুসলমানকে।

জিনজিয়াংয়ে ৪৬৫টি ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পের সাবেক এক বন্দি ওমর ২০১৮ সালে বিবিসিকে বলেন, আরও ৪৫ জনের সঙ্গে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। ঘুমানোর জন্য তারা খুব কম জায়গা পেতেন।

বছর দুয়েক আগে এই ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসেছিলেন সাইরাগুল সৌবেই নামের এক ব্যক্তি। হারিৎসকে তিনি বলেন, সেখানকার খাবার খুবই বাজে। ঘুমানোর জন্য যথেষ্ট জায়গা পাওয়া যায় না। পরিবেশও যথেষ্ট অস্বাস্থ্যকর।

তিনি জানান, ১৬ বর্গমিটারের একটি কক্ষে তারা ১৬ জন থাকতেন। প্রতিটি রুমে টয়লেটের জন্য প্লাস্টিকের একটি বালতি ছিল। সেটা ব্যবহার করতে একজন বন্দিকে দুই মিনিট করে সময় দেয়া হত। দিনে একবার সেই বালতি পরিষ্কার করা হতো।

যদি উহানের এই ভাইরাস জিনজিয়াংয়ে ছড়ায়, তবে বন্দিদের ওপর তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের সভাপতি দুলকুন ইসা বলেন, লাখ লাখ লোকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন ও মধ্যএশিয়ার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জেমস মিলওয়ার্ড এক টুইটার পোস্টে বলেন, ঠাসাঠাসি করে বসবাস, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে আটক উইঘুর মুসলমানদের ওপর।