যা থাকছে মেয়র প্রার্থীদের ইশতেহারে

রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

দুর্নীতিমুক্ত সচল নগরী গড়বেন তাবিথ

মেয়র নির্বাচিত হলে ৬০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচিসহ বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। দুর্নীতিমুক্ত সচল নগরী গড়ার লক্ষ্যে ‘অদম্য ঢাকা প্ল্যাটফর্ম’ শিরোনামের নির্বাচনী ইশতেহারে ১২ দফা কর্মসূচি নির্ধারণ করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন তাবিথ আউয়াল। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কায় থাকা তাবিথ এবারের নির্বাচনকে দেখছেন বাংলাদেশকে ‘গণতন্ত্রের কক্ষপথে’ ফেরানোর লড়াই হিসেবে। সেই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারলে ঢাকার নাগরিক সমস্যার সমাধানে কাজ করা সহজ হবে বলেই মনে করছেন তিনি।

ইশতেহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ডেঙ্গু, দূষণের ক্ষেত্রে আমরা এখন পৃথিবীর সেরা। পানি-শব্দ-বায়ুদূষণ, দুর্নীতি ও দুঃশাসনসহ ৩-৪টি বিষয়ে আমি শুরুতেই প্রাধান্য দেব। এ ছাড়াও বর্জ্য ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, গণপরিবহনসহ নাগরিকদের প্রত্যেকটি সমস্যাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের অঙ্গীকার থাকবে আমার ইশতেহারে।

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরের ফাঁকা জায়গা চিহ্নিত করে সেনেটারি ফিল্ড স্থাপন করবেন তাবিথ আউয়াল। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওয়ার্ডভিত্তিক পর্যায়ক্রমে বছরব্যাপী কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মশার লার্ভা, লার্ভিসাইট দমনে যথাযথ ইনসেকটিসাইড ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরি করবেন। এ জন্য পুরো বছর ধরে ক্যাম্পেইন করা হবে।

ব্যবহৃত পানি প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ফের ব্যবহারের উপযোগী করা এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়াটার টেস্টিং ফ্যাসিলিটির ব্যবস্থা করা হবে। ওয়াসার পানির মান গ্রহণযোগ্য মাত্রার নিচে নেমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াসাকে চাপ দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিএনপির এই প্রার্থীর ইশতেহারে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনে প্রাইভেট আউট সোর্সের মাধ্যমে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, জনসংখ্যা অনুযায়ী মানসম্মত টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানোসহ বস্তিবাসীর জন্যও বাথরুম ফ্যাসিলিটির কথা থাকবে।

সিটির প্রতিটি স্তরের দুর্নীতি দুই ভাগে ভাগ করে কাজ করা হবে। আলাদা স্ট্যাকিং ফোর্স চালু করা হবে। নগরের যে রাস্তাঘাট জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দীর্ঘদিন খোঁড়াখুঁড়ি চলছে সেই কাজ দ্রæত শেষ করার প্রতিশ্রুতি থাকছে ইশতেহারে।

সিটির নতুন আওতাভুক্ত এলাকার নাগরিকদের সিটি করপোরেশনের সব সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ অধিকার রক্ষা করা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়া হবে। বায়ু, পানি, শব্দদূষণ রোধ, হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম-মৃত্যু সনদসহ নাগরিক সেবায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর রূপরেখা থাকছে ইশতেহারে। এ ছাড়াও নিরাপদ সিটি পরিবহন, হকারদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বহুতল পার্কিং, কর্মজীবী নারী ছাড়াও নিম্নবিত্তদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে আলাদা অফিস, কর্মজীবীদের জন্য নৈশ স্কুল, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিমা ও পাঠাগার নির্মাণের ঘোষণা দেবেন তাবিথ আউয়াল।

কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ, সুবিধামতো স্থানে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন, শহরে নৌ-পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু, সুবিধাজনক স্থানে ফুটকোর্ড স্থাপনসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানের আরো বেশি কিছু প্রতিশ্রুতি থাকছে ইশতেহারে। এগুলোর মধ্যে পাবলিক টয়লেট, নারীদের জন্য আলাদা বাস এবং তাদের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে। ইশতেহারে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড ও ট্যাম্পু স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা নির্ধারণের প্রতিশ্রুতিও থাকবে। এ ছাড়া ইশতেহারে ওয়াসা, তিতাসসহ নানা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের দ্বন্দের ধারাবাহিকতা ভেঙে দিতে ৫৪টি সংস্থার সঙ্গে বসে কাজ করার অঙ্গীকার থাকবে তাবিথ আউয়ালের ইশতেহারে।

বাসযোগ্য নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

ভোট নিয়ে সংশয়-শঙ্কা থাকলেও ভোটারদের জন্য বাসযোগ্য ক্লিন নগরী উপহার দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে ১৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এতে থাকছে ভবিষ্যৎ ১০০ বছরের পরিকল্পনা ও বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার।

আগামীকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ১০টায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন ইশরাক হোসেন। ইশতেহার ঘোষণার বিষয়ে তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় নগরবাসীর নানা সমস্যা, সমন্বয়হীনতার কারণে ভোগান্তি, মশক নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অনেক অসুবিধা নিয়ে নানা কথা আমি বলে আসছি। ইশতেহারে সেবামূলক কাজের নানা পরিকল্পনা সুস্পষ্টভাবে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। যেখানে নগরবাসীর জন্য থাকছে বিশেষ চমক।

ইশরাকের দৃষ্টিতে নগরীর সমস্যা : ঢাকা মহানগরের মৌলিক সমস্যা হিসাবে বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, যানজট ও এডিস মশার বিস্তার রোধ, নারীর নিরাপত্তা, পাবলিক টয়লেট সংস্কার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা ব্রিজ নির্মাণসহ নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যাগুলো।

ঢাকা নিয়ে ১০০ বছরের ‘মাস্টার প্ল্যান’ : নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই পরিকল্পনা করা হবে। যেখানে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়াসহ ঢাকাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ থাকবে। এ ছাড়াও ক্লিন ঢাকা গড়তে সব ধরনের পদক্ষেপসহ নাগরিকদের ২৪ ঘণ্টা সুবিধার জন্য ওয়ান স্টপ সেন্টার করার পরিকল্পনা থাকবে।

বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা : ইশরাকের ইশতেহারে বিশেষ গুরুত্ব¡ দেয়া হবে বায়ুদূষণকে। বায়ুদূষণের কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন তিনি। এর মধ্যে ইটভাটার কারণে ৫৮ ভাগ দূষণ চিহ্নিত করে নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মেয়রের যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, সেই পদক্ষেপগুলো নেবেন বলে ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেবেন।

এ ছাড়াও পুরান ঢাকাসহ নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। হালকা বৃষ্টিপাতেও সেখানে বসবাস দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে ভিন্ন কৌশলের কথা জানাবেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে পুরান ঢাকায় বড় সমস্যা উল্লেখ করে সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কাঁচা ময়লা নিরসনের মধ্যে দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ শুরুসহ ফায়ার সার্ভিসকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হবে।

গারবেজ কম্পাকটর মেশিন স্থাপন : গারবেজ কম্পাকটর মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা খোলা কনটেনারে রাখার পরিবর্তে আবদ্ধ কনটেনারে রাখা হবে। এ মেশিনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রেশার দিয়ে ময়লার ব্লক তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময় এই ময়লার বøকগুলো ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।

রাস্তার নিচে কমন ইউটিলিটি টানেলের ব্যবস্থা : শহরের প্রত্যেকটা রাস্তার নিচে কমন ইউটিলিটি টানেলের ব্যবস্থা করবেন ইশরাক হোসেন। যেটা কমন ইউটিলিটি ডাক্ট হিসেবে বেশি পরিচিত। কংক্রিটের তৈরি এই ট্যানেলের ভেতর দিয়ে ইলেকট্রিক, গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইন বসানোর আলাদা আলাদা জায়গা থাকবে। নতুন লাইন বসানো বা লাইন মেনটেন্যান্স করাও সহজ হবে। উন্নত বিশে^ এ ধরনের ট্যানেল রয়েছে।

যানজট ও এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ : যানজটের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কারণে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্মিলিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়া হবে। ট্রাফিকের জন্য যেসব অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় রয়েছে তাদের সমন্বয় করে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবেন তিনি।

এ ছাড়া এডিস মশার ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে ওষুধ ব্যবহার করা হবে। বছরব্যাপী জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি বাসাবাড়ির যেখানে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো সরানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে।

দুর্নীতিমুক্ত নগর পরিকল্পনা : মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকাকে নিরাপদ বাসযোগ্য ও সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা থাকবে ইশরাকের ইশতেহারে। সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন তিনি।

নারীর নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা : ইশরাকের ইশতেহারে নারী-শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা থাকবে ইশরাকের ইশতেহারে। সে ক্ষেত্রে নারীর নিরাপদ চলাচলে প্রতি রুটে মহিলা বাস, হয়রানি রোধে রাস্তার মোড়ে বিশেষ সিকিউরিটি টিম অপরাধী চিহ্নিত করতে বিশেষ সিসি টিভির ব্যবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গণশৌচাগার নির্মাণ : মেয়র নির্বাচিত হলে তিন মাসের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা এবং ঘনত্ব বিবেচনায় গণশৌচাগার নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশরাকের ইশতেহারে। পর্যাপ্ত গণশৌচাগারের অভাবে নারী এবং প্রতিবন্ধী মানুষেরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন, অস্বস্তিতে পড়েন বিষয়টি মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। গণশৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

পরিকল্পনায় পুরান ঢাকা ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইশরাক হোসেনের। ওয়ার্ডওয়ারি যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা হলো জলাবদ্ধতা ও যানজট সমস্যা। আপনারা জানেন, পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো সরু। এর বাইরে সেখানে বহু অবসবাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে, যেটি ঝুঁকিপূর্ণ তা মেরামত করবেন। অগ্নিকাণ্ডের ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনা যেন আর না ঘটে ওয়ার্ডওয়ারি চিহ্নিত করে সেগুলোকে বসবাসযোগ্য করবেন।

 

ত্রিমুখী কর্মপরিকল্পনা আতিকুল ইসলামের
‘সবাই মিলে সবার ঢাকা, সুস্থ সবল আধুনিক ঢাকা’ গড়ার অঙ্গীকারে আজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর হোটেল লেকশোরে ইশতেহার ঘোষণা করবেন তিনি। এরইমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজ শেষ করে এনেছেন সাবেক এই মেয়র। তার এবারের ইশতেহারে পূর্বের দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি থাকছে আরো নতুন কিছু প্রতিশ্রুতিও। সব মিলিয়ে একটি ত্রিমুখী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন ৯ মাস মেয়রের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই প্রার্থী। তার নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ‘স্মার্ট ঢাকা গড়া’।

জনপ্রিয় মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির উপনির্বাচনের আগে ১২ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন আতিক, তার বড় অংশই থাকছে এবারের ইশতেহারেও। নতুন করে আরো বেশকিছু বিষয় সংযুক্ত হবে বলে ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি সূত্রে জানা গেছে। আতিকের এবারের ইশতেহারে ত্রিমুখী কর্মপরিকল্পনায় থাকছে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের বদলে যাওয়া ঢাকা উত্তর সিটিকে আরো নান্দনিক ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার।

আতিকুল ইসলাম উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গত ৯ মাস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তিনি বেশকিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। বেশকিছু কাজ শুরুও করেছেন। যদিও দায়িত্ব নেয়ার পরপরই নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, এফ আর টাওয়ার ও গুলশান মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডসহ নানামুখী সমস্যা সমাধানের চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে তাকে। তারপরও বেশকিছু কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। যার ধারাবাহিকতা রাখতে চান আগামী ৫ বছরও। তার আকাক্সক্ষা- ঢাকা হবে সুস্থ, সচল, আধুনিক, গতিময়, মানবিক ও সবুজ নগরী। এ ছাড়া ঢাকা হবে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় একটি স্বপ্নের শহর।

আতিকুল ইসলামের ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে আরো থাকছে- ডিজিটাল প্রযুক্তিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা; নগর অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিক সমস্যা সরাসরি জানানো ও সমাধানের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া; নগর পরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি ডিজিটাল-সমন্বিত প্রটিকিটিং সেবা চালুসহ বেশ কিছু ডিজিটাল পদক্ষেপ।

আতিকের ইশতেহারে স্মার্ট ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার থাকছে। এতে করে তিনি ঢাকার যানজট সমস্যা দূর করবেন। পরিবহন খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনবেন। ঢাকা উত্তরের পুরনো ৩৬টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি নতুন যুক্ত হওয়া ১৮ ওয়ার্ডের উন্নয়নে আরো বেশি মনোযোগ দেবেন। এরইমধ্যে গুলশান-বনানীর মতো করে ওইসব ওয়ার্ড গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন নির্বাচনী গণসংযোগে নেমে। ঢাকা নগরীকে বসবাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে চান তিনি। এ জন্য বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা থাকছে ইশতেহারে।

এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ, মশকনিধন, বায়ুদূষণ রোধে মহাপরিকল্পনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বহুতল ভূ-গর্ভস্থ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রভৃতি। এ ছাড়া নগরীর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার বিশেষ উদ্যোগ নেবেন আতিক। নগরীর প্রতিটি এলাকায় এলইডি বাতি জ্বালানো হবে। পুরো নগরী হবে আলোকময়। উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও অঙ্গীকার থাকছে।

সুশাসিত ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার তাপসের

‘ঐতিহ্যে-সুন্দর-সচল-সুশাসিত ও উন্নত’ ঢাকার পথচলা- এই শিরোনামে আসছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্বাচনী ইশতেহার। আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে নগরবাসীর কাছে এ ইশতেহার তুলে ধরবেন তিনি। ঢাকার উন্নয়নে তাপসের ইশতেহারে থাকছে ৩০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। উন্নত দেশ গড়তে উন্নত রাজধানী গড়াই তার মূল লক্ষ্য। অলীক কোনো স্বপ্ন নয়, যা বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলোই থাকছে তাপসের ইশতেহারে। ঢাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী, বাস্তবতার আলোকেই আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার টার্গেটের অংশ হিসেবে উন্নত ঢাকা উপহার দিতে চান তিনি। ইশতেহার প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৪টি থানা ও ৭৫টি ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গঠিত। এখানে নাগরিক সুবিধা সীমিত। পুরনো ঢাকার সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও আছে তার। বিশেষ করে যানজট, জলাবদ্ধতা আর মশার উৎপীড়ন থেকে নগরবাসীকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকছে তাপসের নির্বাচনী ইশতেহারে। বিশেষ করে পুরনো ঢাকাকে উন্নত রূপ দেয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া থাকছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ঢাকাকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখাও। এইমধ্যে ইশতেহার প্রণয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। মেয়র নির্বাচিত হলে ৯০ দিনের মধ্যে নাগরিকদের সব মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি থাকছে তাপসের ইশতেহারে।

প্রথমত তাপসের ইশতেহারে থাকছে ঐতিহ্যের ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি। ঢাকার ঐতিহাসিক জায়গা সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও উন্নয়নে থাকছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব রক্ষায় সমন্বিত প্রয়াসে মহাপরিকল্পনা ও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করে ঢাকাকে তার স্বকীয় গৌরবে সাজিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন তিনি।

দ্বিতীয়ত থাকছে সুন্দর ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা ২ নদীর অববাহিকায় পত্তন হওয়া এই ঢাকাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে সবুজায়ন, পরিবেশবান্ধব স্থাপনা বাড়ানো ও বায়ু দূষণ রোধের নির্দেশনা আছে। থাকছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ নিশ্চিত করা, নারী-শিশু ও প্রবীণদের জন্য হাঁটার উন্মুক্ত স্থান, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাড় ঘিরে বনায়ন, বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনসহ ব্যাপক সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে সুন্দর ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার।

তৃতীয়ত, সচল ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি। সচল ঢাকা গড়তে গণপরিবহনের সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছু রাস্তায় দ্রুত গতির যানবাহন, কিছু রাস্তায় ধীর গতির যানবাহন, আবার কিছু রাস্তায় শুধু মানুষ হাঁটার ব্যবস্থা করা হবে। নদীর পাড়ে থাকবে সুপ্রশস্ত রাস্তা, যেখানে পায়ে হেঁটে চলা যাবে, চালানো যাবে সাইকেল, রিকশা ও ঘোড়ার গাড়ি। দ্রুতগামী যানবাহনের জন্য থাকবে আলাদা পথ, থাকবে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা। ঢাকাকে এভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি তিনি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকছে। থাকছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকা দক্ষিণের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে উন্নয়ন পরিকল্পনা।

চতুর্থত, সুশাসিত ঢাকা উপহার দিতে চান ব্যারিস্টার তাপস। এই প্রতিশ্রুতির আলোকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরায় কার্যকর করে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলসহ এলাকাভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি থাকছে। এ আলোকে ব্যারিস্টার তাপস বছরের ৩৬৫ দিন, সপ্তাহের ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টা নাগরিক সেবা দিতে নগরভবন খোলা রাখবেন। মশকের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, মশক নিধন ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে দৈনন্দিন ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন তিনি। আইন, বিধি ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ঢাকার উন্নয়ন ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সিটি করপোরেশনের নিকট সমন্বিতভাবে দায়বদ্ধ থাকবে।

পঞ্চমত উন্নত ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকারের আলোকে থাকছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত রূপকল্প ২০৪১ সালে সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশের উন্নত রাজধানী ঢাকা গড়তে দীর্ঘ ত্রিশ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রত্যেকটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মান নিরূপণ করে অন্তত দশ বছর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকার। অর্থাৎ একটি উন্নত রাজধানী শহরের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের রূপরেখা থাকছে ব্যারিস্টার তাপসের নির্বাচনী ইশতেহারে।