ফাইবারে রোগ থাকবে দূরে

রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো রোগ দূরে রাখতে ফাইবারের বিকল্প নেই

দীর্ঘদিন সুস্থ ও নীরোগভাবে বাঁচতে হলে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের বিকল্প নেই। নিয়মিত ফুলকপি, পালং শাক, বাদাম এবং ডালের মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরে ফাইবারের ঘাটতি হবে না। বিশেষ করে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো রোগ দূরে রাখতে ফাইবারের বিকল্প নেই। তাই নিয়ম করে যদি শরীরে ফাইবারের ঘাটতি মেটানো যায়, তাহলে নানাবিধ শারীরিক উপকার পাওয়া যায়।

১. নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে, তার প্রভাবে গল ব্লাডারে এবং কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না । সেই সঙ্গে কিডনির কার্যক্ষমতাও ভালো থাকে।

২. হাড়ের রোগে আক্রান্ত হতে না চাইলে নিয়মিত এমন শাক-সবজি এবং ফল খাওয়া উচিত যাতে ফাইবার রয়েছে। দেহে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

৩. গবেষণায় প্রমাণিত যে প্রতি ১০ গ্রাম ফাইবারের কারণে ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১০ শতাংশ করে কমে যেতে শুরু করে। তাই দিনে যত বেশি মাত্রায় ফাইবারের প্রবেশ ঘটাবেন শরীরে, তত ক্যানসার দূরে থাকতে বাধ্য হবে। বিশেষ করে ব্রেস্ট এবং কলোরেকটাল ক্যানসার।

৪. খাবার মাধ্যমে এবং নানাভাবে আমাদের শরীরে টক্সিন প্রবেশ করে। এই উপাদান যদি ঠিক সময়ে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে নানা ধরনের সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে ক্যানসারের মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। টক্সিন শরীর থেকে বের করে দিতে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া কার্যকর।

৫. গবেষণায় প্রমাণিত প্রতি সাত গ্রাম ফাইবার, হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৯ শতাংশ হারে কমিয়ে দেয়। তাই যত বেশি মাত্রায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাবেন, ততই হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আসলে ফাইবার রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। স্বাভাবিকভাবে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

৬. ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করলে যে কেবল ওজন কমে এমন নয়, সঠিক ওজন ধরে রাখতেও সাহায্য করে । শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি নিজের বি এম আই- (বডি মাস ইনডেক্স)-কে যদি বিপদসীমার নিচে রাখতে চান, তাহলে উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে ভুল করবেন না।

৭. শরীরে ফাইবার প্রবেশ করতে থাকলে দেহে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতার যেমন উন্নতি ঘটে, তেমনি মেটাবলিজম রেটও বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে কনস্টিপেশনের প্রকোপও হ্রাস পায়।

৮. যাদের শরীরে নিয়মিত ২৬ গ্রামের মতো ফাইবার প্রবেশ করে, তাদের ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। আসলে ফাইবার, শরীরে প্রবেশ করার পর ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাকে এতটা বাড়িয়ে দেয় যে রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো আশঙ্কাই থাকে না। যাদের পরিবারে এমন রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করতে পারেন।