নেতাকর্মীরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় : ইশরাক

রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

ঢাকা : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখে ওরা ভীত-সস্ত্রন্ত হয়ে পড়েছে। তাই আমাদের গণসংযোগে কাপুরষের মত হামলা করছে। তিনি এ ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, হামলা-গুলি করে জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবেনা। আমাদের নেতাকর্মীরা এতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়।

আজ রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ বাসার নির্বাচনী কার্যালয়ে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক। ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা দেখে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনকে বানচালের অপচেষ্টায় অংশ হিসেবে এ হামলা হয়েছে। এতে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। আমরা ভোটারদের আহ্বান জানাব, আপনারা অবশ্যই পহেলা ফেব্রুয়ারী নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। অধিকার আদায়ে ঘুরে দাড়াতে হবে।

প্রেস ব্রিফিং-এ বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, যুব দলের সাধারন সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, রওনাকুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, আপনারা শান্ত থাকুন, বিচলিত হবেন না। এতে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। এই হামলার কারণে পরবর্তীতে কয়দিন নির্বাচনী প্রচারণায় কোন শঙ্কা বোধ করছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘একদমই না। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। গুলির শব্দে আমি ভয় পাই না। জনগণের অধিকারের লড়াইয়ে আমি জীবন দিতে প্রস্তুত, রক্ত ঝরাতে প্রস্তুত। মরতে হলে মরবো, তবুও কোন সন্ত্রাসীর কাছে মাঠ ছেড়ে দিবো না।’

হামলার ঘটনার বর্ননা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মতিঝিল এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ করে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মহিলা কমিশনার লাভলী চৌধুরী ক্যাম্পের সামনে দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। আকস্মিকভাবে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

নয়া দিগন্তের সাংবাদিক ইকবাল মজুমদার (তৌহিদ), সময় টিভির ক্যামেরাম্যান আশরাফুল ইসলাম ও বাংলাভিশনের সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন উজ্জ্বল দাস আহত হয়েছেন। আমার উপরে হামলার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু আমার নেতাকর্মীরা আমাকে সুরক্ষা দিয়েছে। ’ তিনি বলেন, ওখান থেকে যখন চলে আসি তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। আমি নিজে গুলির শব্দ শুনতে পাই।

নির্বাচন কমিশন -এর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর যখনই কোন হামলা হয়েছে তখনই সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেন নি। আমি নিজেই একজন কমিশনার প্রার্থীকে থানায় গিয়ে দেখে এসেছি। তার মাথা থেকে রক্ত পড়ছে। কিন্তু থানা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আর কি বলব! আপনারা তো জানেন বাংলাদেশে এখন কি চলছে!

একজন মেয়র প্রার্থী হিসেবে যে ধরনের নিরাপত্তা পাওয়ার কথা তা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইল ইশরাক হোসেন জানান, কোন ধরনের নিরাপত্তা পাইনি।

পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন,‘ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পুলিশ এসেছে। এর আগেও আমি আপনাদের বলেছি, কিছু কিছু থানায় কিছু কিছু কর্মকর্তারা আমাদের সাহায্য করেছেন। কামরাঙ্গীরচরে আজকের মত এরকম একটা ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। সেখানে তারা যথেষ্ট পরিমাণ সুরক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু ওয়ারী থানায় ন্যক্কারজনকভাবে অনেকগুলো ঘটনা ঘটছে।

বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর ক্যাম্প পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেক জনের মাথা ফাটিয়ে দেওয় হয়েছে। এই থানার কর্মকর্তা একেবারেই দায়সারা গোছের কথা বলছেন। পুলিশ বিভাগের অনেকের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলেও কেউ কেউ দলীয় ক্যাডারের মত আচরন করছেন। যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত। ’

এ ঘটনায় কোনো মামলা করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি মামলা করব। কারন আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের এতগুলো মানুষ আহত হয়েছেন, গণমাধ্যমের ভাইয়েরা আহত হয়েছে। মামলা তো করবোই।’