কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে নিমিষেই বার্তা যাবে মহাবিশ্বে

রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল রুমে একটা সুইচ টেপা হলো। পাঠানো হলো একটা টেলিফোন বা ফ্যাক্স-বার্তা, কিংবা মোবাইল মেসেজ। আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অ্যালার্ম বেজে উঠল ৪ আলোকবর্ষ দূরে থাকা নক্ষত্রমণ্ডল আলফা সেনটরিতে। আলোর গতিবেগে ছোটা সম্ভব হলে যোগাযোগটা হতো তাৎক্ষণিক। তবে ‘প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই’ অর্থ আলফা সেনটরিতে ওই অ্যালার্ম ঘড়িটার বাজতে সময় লাগবে চার বছরের সামান্য বেশি সময়। অথবা, ধরা যাক, খুব জটিল একটা অঙ্ক, যেটা কষতে এখনকার কম্পিউটারের লেগে যেত হাজার কোটি বছর, সেটাই এবার কষে ফেলা যাবে এক সেকেন্ড বা তারও ভগ্নাংশে!

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের দেখানো এক ‘ভুতুড়ে খেল’ এই সব আশার পালেই জোরালো বাতাস দিল। এই গবেষণা দেখাল, একটি কম্পিউটার চিপ থেকে অনেক দূরে থাকা অন্য একটি কম্পিউটার চিপে অত্যন্ত দ্রুত বার্তা পাঠানো যায় একটি বিশেষ অভিনব পদ্ধতিতে, যেখানে দূরত্বের বাধা অনেকটাই কমে যাবে। যুগান্তকারী এ আবিষ্কারের গবেষণাপত্রটি প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল নেচারফিজিক্সের সাম্প্রতিক সংখ্যায়।

বার্তা পাঠাতে ব্যবহার করা হয়েছে দুটি সিলিকন চিপ, ১০ মিটার দীর্ঘ তার, আর আলোর কণা বা ফোটন। ফোটন কণাটি এক সিলিকন চিপ থেকে দূরত্বে থাকা আরেকটি সিলিকন চিপে পাঠানো সম্ভব হয়েছে ১০ মিটার দীর্ঘ সংযোগকারী তারের মাধ্যমে। এর আগে এত অল্প সময়ে যা কখনো সম্ভব হয়নি। এর আগে উপগ্রহের মাধ্যমে দুটি শহরের মধ্যে কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল চীন।

বিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন। কোনো জিনিসকে বাক্স বা পার্সেলে পুরে আমরা অনেক দূরে পাঠাতে পারি। একে বলে ট্রান্সপোর্টেশন। তবে আরও এক প্রকারে কাজটি করা যায়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন যেখানে দূরত্বটা কোনো বড় বাধা নয়। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানান, তারা টেলিফোনের লাইন কাটেননি। ফোনে কথা বলাবলিতেও কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। তবে টেলিফোনে যাতে কম বাক্যালাপেই কাজটা হয়ে যায়, তার ব্যবস্থা করেছেন। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন আলোক-কণা ও পদার্থের অবস্থার বিশেষ একটি চারিত্র্য।

এলাহাবাদের এইচআরআইয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক উজ্জ্বল সেন বলেন, কম্পিউটারের দুটি চিপের মধ্যে এই বার্তা পাঠানোর পরীক্ষা এর আগে সফল হয়নি। সেই অর্থে এ আবিষ্কার যুগান্তকারী। দ্বিতীয়ত, এত অল্প সময়েও এত বেশি পরিমাণে বার্তা পাঠানো এর আগে সম্ভব হয়নি। যদি সনাতনী পদার্থবিজ্ঞানের কৌশলে এই বার্তা পাঠানো হতো, তা হলে মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ খবর পাঠানো যেত। আইনস্টাইনের মতো প্রবাদপ্রতিম বিজ্ঞানীও অনেক দিন আগে এই ব্যাপারটাকে মানতে চাননি। তিনি একে বলেছিলেন, স্পুকি অ্যাকশন বা ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা। আলোর চেয়ে বার্তাকে কখনই জোরে ছোটানো যাবে না, বলেছিলেন তিনি।