বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতবাসে হটলাইন, উহানে বসবাসকারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ

শনিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানী বেইজিংয়ের বাংলাদেশ দূতবাসে সেখানকার বসবাসকারী বাংলাদেশিদের যোগাযোগের জন্য হটলাইন খোলা হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বেইজিং-এ আমাদের এম্বেসিতে হটলাইন খোলা হয়েছে (86)-17801116005। আমাদের কর্মকর্তা খায়রুল বাসার এবং আসিফ বাংলাদেশিদের করা ২৪৫ সদস্যের We Chat গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।’

‘বিশেষ করে Wuhan (উহান) শহরে সরকার কাউকেই বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। বিচলিত না হয়ে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার জন্য সবাইকে বলা হয়েছে’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার কারণে অনেক বাংলাদেশি বর্তমানে চীনে বসবাস করেন। সর্বশেষ করোনাভাইরাসে সংক্রামিত হয়ে ৪১ জনের প্রাণহানী হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২৮৭ জন। এরই মধ্যে চীনা কর্তৃপক্ষ ১৩টি শহর প্রায় ‘তালাবদ্ধ’ করে দিয়েছে। সেখানে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন।

করোনাভাইরাস গোত্রের জীবাণুটির উৎপত্তি চীনের উহান শহরে হওয়ায় আপাতত একে ‘উহান ভাইরাস’ নাম দিয়েছে গণমাধ্যমগুলো। সেখানে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রস্তুত হবে এক হাজার শয্যার নতুন একটি হাসপাতাল। সেনাবাহিনীর বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

জানা গেছে, কোনো সরীসৃপ প্রাণী থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করলেও মানুষের মাধ্যমেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একজন আক্রান্ত রোগী থেকে এই ভাইরাস কমপক্ষে তিনজন মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে।

এ ব্যাপারে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এরিক রুবিন জানান, কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্যের শরীরে সংক্রমিত হয়। তাই এমন রোগীর কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতাই আপাতত এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের প্রাথমিক উপায়।

করোনাভাইরাসের নামকরণের প্রধান সূত্র এই ভাইরাসটির আকার। ভাইরাসটি সূর্যের করোনা বা মুকুটের মতো দেখতে। এই ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর উপসর্গ হলো—সংক্রমণের সময় জ্বর, শ্বাসজনিত সমস্যা, গলা ফোলা। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো টিকা বা প্রথাগত চিকিৎসা নেই। প্রতিকারের উপায় হিসেবে সংক্রমণ ঠেকানোর ওপরই ভরসা করছেন গবেষকরা।