বিএসএফের দোষ দিয়ে লাভ নেই, দায় নেবে না সরকার: সাধন চন্দ্র মজুমদার

শনিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

ঢাকা : ভারতে অনুপ্রবেশ করে গরু আনতে গিয়ে গুলি খেয়ে কেউ নিহত হলে তার কোনও দায়িত্ব সরকার নেবে না বলে সাফ জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এসব হত্যাকাণ্ডে তাদের (বিএসএফ) দোষ দিয়ে লাভ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতের পবা উপজেলার দামকুড়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী (গৌরবের ৭৩ বছর) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নওগাঁর পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্তে যে দুই বাংলাদেশি ভারত সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন, তাদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান নওগাঁ-১ (নেয়ামতপুর-পোরশ-সাপাহার) আসনের এই সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে পোরশা উপজেলা দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১/১০(এস) মেইন পিলারের নীলমারী বীল এলাকায় ভারতের মালদা জেলার ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ জোয়ানরা গুলি চালিয়ে ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা করে। ওই ঘটনার দিন এবং আগের দিনের ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তে নিহত হোন ৬ বাংলাদেশ। যা নিয়ে সমালোচনা চলছে।

এবিষয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আসলে আমাদের চরিত্র ভালো না হলে পরের দোষ দিয়ে লাভ নাই। ভারত থেকে আমরা গরু আনতে দেবো না। এজন্য আমাদের উপজেলা ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও বিজিবির রেজ্যুলেশন করা হয়েছে। এরপরও কেউ যদি জোর করে কাঁটাতারের বেড়া কেটে গরু আনতে গিয়ে গুলি খেয়ে মারা যান, তার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকার নেবে না।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফেসবুক ও ইউটিউবের কারণে যুবকদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। তাই এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম গড়ে তুলতে হবে। এ ব্যাপারে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম না থাকলে শিক্ষার কোনও মূল্য নেই। অভিভাবকদেরও এ ব্যাপারে নজরদারি থাকতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেক অভিভাবক আছেন, যারা ছেলেমেয়েদের খোঁজখবর রাখেন না, এতে ছেলেমেয়েরা বিপথে যেতে পারে। মোবাইল যাতে ভালো কাজে ব্যবহার হয়, সে ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাঙালিরা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের যে ভিশন উন্নত রাষ্ট্রে উপনীত হওয়া তা প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বের ফলে ২০৩১ সালের মধ্যেই অর্জিত হবে।’

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা আছে, এখন প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন খাদ্যমন্ত্রী।