গণজোয়ারের ফসল ঘরে তুলতে হবে, কোন উস্কানিতে পা দিবেন না : ইশরাক

শনিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নিজেকে জনগণের প্রতিনিধি দাবি করে বলেছেন, ‘তার পক্ষে নগরবাসিকে একটি সুন্দর-মানবিক ও আধুনিক বাসযোগ্য ঢাকা উপহার দেয়া সম্ভব। যা সরকারের প্রতিনিধির পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ সরকারের কাছে তাদের নানা দায়বদ্ধতা রয়েছে।’
আজ শনিবার (২৫ জানুয়ারী) বংশাল থানাধীন রায়সাহেব বাজার মোড়ে সিটি নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী এক সপ্তাহ বিএনপি কর্মী সমর্থক এবং ভোটারদের জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তার ফসল ঘরে তুলতে পহেলা ফেব্রুয়ারী আপনার সকলে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। কাউকে ভয় করবেন না। কোন উস্তানিতে পা দিবেন না। এ দেশটা কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এই দেশটার মালিক হলো জনগণ। আমিও আপনাদের সাথে মাঠে থাকবো। জনগণকে সাথে নিয়ে সকল স্বৈরাচারকে বিদায় করব।
পথসভা শেষে রায় সাহেবের মোড় থেকে ৩৬ নং ওয়ার্ডের বাগডাসা লেন সুইপার কলোনী, তাঁতীবাজার, কসাইটুলী হয়ে জিন্দাবাহার জামে মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন ইশরাক হোসেনসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এসময় দোকানপাট ও পথচারিদের হাতে লিফলেট বিতরণ এবং দোকানে দোকানে গিয়ে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ইশরাক হোসেন। এসময় বহুতল ভবনের ছাদে, বারান্দা ও ব্যালকনিতে দাড়িয়ে নারী-পুরুষ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। বিভিন্ন স্থানে নারী ভোটাররা বাড়ির ব্যালকনিতে দাড়িয়ে বৃষ্টির মত ফুলের পাপড়ি ছিটান ধানের শীষের প্রার্থীসহ গনসংযোগ বহরে।
গণসংযোগে অন্যদের মধ্যে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এস এম জিলানী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবু তাহের, তাজ উদ্দিন আহমেদ, ইয়াকুব সরকার, শাহীদা মোরশেদ, যুবদল নেতা শরিফ হোসেনসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
আছরের নামাজ শেষে করে ৩৫ নং ওয়ার্ডে প্রচারণা ও গণসংযোগ করে বংশাল (বড় মসজিদ) জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে সন্ধ্যা সাতটায় ২৭ নং ওয়ার্ডের ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আজকের প্রচারণা শেষ করবেন ইশরাক হোসেন।
এদিকে আজ খিলগাঁও থানাধীন ৭৪ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুর হান্নান খানের ঘড়ি প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করেন জাসাস কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ। এসয় অন্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীর সিকদার, সিবা শানু, সৈয়দ আবদুস সোবহান, মোরশেদ আলম, মনিরুল ইসলাম মনির, রিপন মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে তত্ববধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার বার বার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছে।
ইশরাক বলেন, জনগণের কাছে তারা বারবার হার মেনেছে। এবারও হার মানবে। সিটি নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে জনগণ আবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, সামনের এই কয়েকদির আমাদের জন চূড়ান্ত পরীক্ষা। গত ১৩ বছর ধরে আমরা যে ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে আসছি তার ফসল ঘরে তোলার সময় এসেছে। নির্বাচন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো, ভোট কেন্দ্র পাহারা দিব, যাতে করে ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। যেখানে বাঁধা আসবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকার উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র ইশরাক হোসেন বলেন, এ সরকার কথায়-কথায় উন্নয়নের বুলি আওড়াচ্ছে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোনো নির্দিষ্ট উন্নয়ন, নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে পাইনি। অন্যদিকে আমার বাবা সাদেক হোসেন খোকা মেয়র থাকা অবস্থায় বলতেন, ‘ঢাকা শহরের জন্য ১০০ বছরের একটা পরিকল্পনা দরকার।’ আমি তার পথ ধরেই এগুতে চাই। ভবিষ্যৎ দেশকে একটা উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আর এটা বিএনপির নেতৃত্বেই সম্ভব।
পথসভায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ নির্বাচন কমিশনকে আমরা অনেক অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন প্রতিকার পাইনি। তবে তারা কি করল, না করল, এগুলো নিয়ে আমি এখন আর মাথা ঘামাচ্ছি না। শুধু তাদের অনুরোধ করতে চাই, সাংবিধানিকভাবে তাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে সেটা সুষ্ঠুভাবে পালন করে জনগণকে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দিবেন।
কোন পারিবারিক প্রভাব পড়বে না নির্বাচনে

এর আগে সকালে গোপিবাগের বাসায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার না করার জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, কোন প্রার্থী বা পরিবারের প্রভাব পড়বে না নির্বাচনে। কারণ, দেশটা কারো পারিবারিক সম্পত্তি না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন,‘আমি যতটুক জানি উনি (তাপস) একজন সজ্জন ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক এবং আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, নির্বাচনে কোন প্রকার ইনফ্লুয়েন্স করবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপরে নির্বাচনী ফলাফল যা হবে আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু এতে কারচুপি হলে জনগণ কোনভাবেই সেটা মেনে নেব না।’
আপনাদের শারীরিকভাবে বা প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ প্রতিপক্ষ বলছেন সঠিক নয়- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার পাশে এখনো মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে একজন দাঁড়িয়ে আছেন। উনার নাম আমিনুল ইসলাম উনি ৫৬ ওয়ার্ডের কামরাঙ্গীরচর এলাকার আমাদের একজন কর্মী। সে গতকাল শুক্রবার আধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। আর কে অস্বীকার করল না করল সেটাতে কিছু যায় আসে না। বাস্তবতাতো থেকেই যায়। তার মত আরো অনেককেই আহত করা হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে আমাদের ৪১ নম্বর কাউন্সিলর প্রার্থীকেও ফিজিক্যালি আহত করা হয়েছে। আমি এবিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি । তারপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তারপরও বলবেন সঠিক নয়!
দেশটা কারো জমিদারি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরাও কারো কথায় পরোয়া করিনা। উনারা কি বললেন, না বললেন সেটা তো কিছু যায় আসে না। যেটা দৃশ্যমান সেটা আপনারাতো দেখতেছেন। এটা কারো নিজের দেশ না। এটা আমাদেরও দেশ। এখানে কারো জমিদারি চলবে না। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার।
আপনার প্রতিপক্ষ মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ পরিবারের সস্তান, তার দল ক্ষমতায়, তার ফুফু দেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কি ফুফুর ক্ষমতার জোরে প্রভাবে জয়ী হবেন কিনা এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি এই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। আমার প্রতিপক্ষ কোন পরিবারের সেটা আমি বড় করে দেখতে চাই না। কারণ এই দল থেকে যারা মনোনয়ন পাবে সবাই তো দলের অবৈধ সুযোগ সুবিধা পাবে। আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা তো রাষ্ট্রযন্ত্র দলীয়করণ করেছে। আর কে কোন পরিবারের সেটা আমার দেখার বিষয় না। এই দেশটার মালিক হচ্ছে জনগণ। এ দেশটা কারো পরিবারের সম্পত্তি নয়। আমি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো। জনগণকে সাথে নিয়ে এই স্বৈরাচারকে বিদায় করব।
অনেকদিন হয়ে গেল নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে কিনা এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন জানতে চাইলে ইশরাক হোসেন বলেন, খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রথম দিকে প্রচারণায় তারা আমাদের বলেছিলেন, আমরা কি ভোট দিতে পারব? তারা গত নির্বাচনের আলোকে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এবার যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তারা নিজেরাই সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন এবার ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষে ভোট দিবেন।
ভোট কেন্দ্রে পাহারা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্র পাহারা বলতে কোন কিছু নেই। কেউ যদি বলে থাকে সেটা ইনফরমাল ল্যাঙ্গুয়েজে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করা হয়। এবারও আমরা সেটা করব। এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা নিযুক্ত থাকবেন তারা সততার সঙ্গে এবং জনগণের সঙ্গে কাজ করবেন বলে আমি আশা করি। কারণ তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের প্রতি। তারা কোনো দলীয় ক্যাডার বাহিনী নয়। আমরা তাদের সহযোগিতা করব। আমরা আশা করছি সবার সার্বিক সহযোগিতায় একটা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।