কুমিল্লায় প্রতিবন্ধীকে নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় নৈশপ্রহরী খুন

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

কুমিল্লা : কুমিল্লার চান্দিনায় আলোচিত নৈশপ্রহরী নাছির হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল ঘাতককে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

বুধবার গভীর রাতে ঘটনার মূল হোতা ঘাতক মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের পরই বেড়িয়ে আসে জেলায় আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি অবহিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন, ডিআইও-১ মাইনুদ্দিন খান, ওসি ডিবি আনোয়ারুল আজিম,ওসি মো. আবুল ফয়সল, ইন্সপেক্টর ইকতিয়ার প্রমুখ।

সূত্র জানায়, টাকা-পয়সার জন্য নয়, প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা দেখে প্রতিবাদ করায় হত্যা করা হয় নাছিরকে। গত ৭ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে এলাকার বখাটে মোয়াজ্জেম এবং সানাউল্লাহসহ ৪/৫ জন মিলে ১৫ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি দেখে বাঁধা দেয় নৈশপ্রহরী নাছির।

এরই সূত্র ধরে নাছিরকে কুপিয়ে হত্যার পর তার লাশ চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেয় ঘাতকরা। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার ১০ দিনের মধ্যেই ক্লু-লেস এবং আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি এবং পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নওতলা এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক থেকে নাছির উদ্দিনের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন লাশের অংশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। নিহত নাছির (২৪) ওই গ্রামের রবিউল্লার ছেলে।

ওই দিন রাতেই নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চান্দিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ দিকে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিআইডি ও পিবিআই। বুধবার রাতে চান্দিনার মাধাইয়া এলাকা থেকে মোয়াজ্জেম (২৫) নামের মূল ঘাতককে গ্রেফতারের পর বেড়িয়ে আসে হত্যার রহস্য।

এ ঘটনায় এর আগে অটোরিকশাচালক সানাউল্লাহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। সানাউল্লাহ এবং মোয়াজ্জেম মিলেই নাছিরকে হত্যা করে।