ফের মার্কিন দূতাবাসের কাছে রকেট হামলা

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে তিন দফা রকেট হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর পুরো গ্রিন জোন জুড়ে সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। তবে ওই হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আজ মঙ্গলবার সকালে আঘাত হানা তিনটি কাতিয়ুশা রকেটের দুটি বিস্ফোরিত হয় মার্কিন দূতাবাসের কাছে। এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাগদাদের গ্রিন জোনে এসব রকেট আঘাত হেনেছে।

ইরাকি পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাগদাদের বাইরের জাফারানিয়া জেলা থেকে এসব রকেট ছোড়া হয়েছে। এসব হামলার জন্য ইরান সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনীগুলোকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন। তবে কেউ এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি।

গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এখন পর্যন্ত ইরাকে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক বার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উত্তরাঞ্চলের আল-তাজি বিমান ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের সদস্যরা ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করলেও এসব হামলায় কোনও হতাহত হয়নি বলে জানানো হয়। আল-তাজি ঘাঁটিতে হামলার দুদিন আগে বাগদাদের উত্তরাঞ্চলে আরেকটি সামরিক ঘাঁটিতেও রকেট হামলা হয়। এতে ইরাকের সামরিক বাহিনীর অন্তত চার সদস্য আহত হয়। এই ঘাঁটিতেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাগদাদের রাজপথে নামে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়েও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অনিয়ম ও ইরাকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে আন্দোলনকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে।

ডিসেম্বরের শুরুতে দেশটির আধাসরকারি মানবাধিকার কমিশন জানায় এসব বিক্ষোভে ৪৬০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১৭ হাজার। বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ ও গুলিবর্ষণের ফলে। কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড ঘিরে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেও নতুন করে তা আবারও দানা বেঁধে উঠেছে। সোমবার ওই বিক্ষোভে বিভিন্ন শহরে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইরান ও ওয়াশিংটনের প্রভাবমুক্ত সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি তুলেছে।