চীনের ভাইরাস ঠেকাতে শাহজালালে সর্বোচ্চ সতর্কতা

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০

ঢাকা : চীনের নতুন ভাইরাস এসএআরএস (সার্স )-এর বিস্তার ঠেকাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চীন থেকে আসা সরাসরি ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

চীনের নতুন ভাইরাস যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে, সেজন্য নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার চীন থেকে আসা তিনটি সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের ফিজিক্যাল স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল আহসান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বিমানবন্দরে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারী এবং বয় ও আয়াসহ হেলথ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। এসব নিয়ে গতকাল সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিমানবন্দরে ওরিয়েনটেশন প্রোগ্রাম করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাসহ বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক নার্স বয় ও আয়াসহ সংশ্লিষ্টরা এ ওরিয়েনটেশনে অংশ নেন।

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ঢাকা-চীন-ঢাকা রুটে প্রতিদিন সরাসরি চীন থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ছয়টি ফ্লাইট যাওয়া-আসা করে। চীন থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ এসএআরএস ভাইরাস ঠেকাতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরে স্থাপিত থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে আসার সময় সংকেত দিলে ওই যাত্রীকে পরীক্ষা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সাধারণত কারও শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেও থার্মাল স্ক্যানার সংকেত দেয়। এ হিসেবে ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরে কোয়ারেনটাইন রুমে রেখে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হবে। এরপর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওই যাত্রীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।

চীন সরকারের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, এসএআরএস একটি নিউমোনিয়া-সংশ্লিষ্ট ভাইরাস। এতে চীনা দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া হুয়ান শহরে এই ভাইরাসে ৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে গত শুক্রবার লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশনস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে।