এনআরসি বাংলাদেশকে চীনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করবে, শঙ্কা বিজেপিতে

সোমবার, জানুয়ারি ২০, ২০২০

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ ভারতের শীর্ষ মহল ও ব্যক্তি প্রায় বাংলাদেশকে আশস্ত করে যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, এ নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

তবুও এই ইস্যুটি যে পর্যায়ে গড়িয়েছে তাতে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে শঙ্কা জেগেছে হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতাসীন দল খোদ বিজেপির মধ্যেই। দলটির এক অংশের আশঙ্কা, এর ফলে প্রতিবেশী বাংলাদেশকে আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করবে বলে।

বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন শেষাদ্রি চারি। তিনি বিজেপির স্বেচ্ছাসেবী হিন্দু জাতীয়তাবাদী ও আধাসামরিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএস’র মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি খোলাখুলি কথা বলেছেন। এই ইস্যুতে চলতি সপ্তাহেই একটি নিবন্ধ লিখে দলকে খোলাখুলি বিষয়টি নিয়ে সাবধান করে দিয়েছেন। নিবন্ধটি প্রকাশ করে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য প্রিন্ট’।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘নাগরিকত্ব আইন-বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যে ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চলছে তাতে বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানবিরোধী শক্তিগুলো এই ধরনের ভুয়া প্রচার চালানোর সুযোগ পেয়ে যেতে পারে। এর ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার ঢল নামবে।’

‘যদিও বাস্তবে সেই (এক্সোডাসের) সম্ভাবনা একেবারেই নেই, তারপরেও বাংলাদেশে গুজব তৈরির কারখানাগুলো কিন্তু এর মাধ্যমে বহু বছর ধরে দু’দেশের মধ্যে গড়ে তোলা বন্ধুত্বকে মাত্র কয়েক মিনিটে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।’

সম্প্রতি ভারত সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। আবু ধাবিতে ‘গালফ নিউজ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের চলমান এই ইস্যু নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বুঝি না ভারত সরকার কেন এই কাজটি করলো। এটা জরুরি ছিল না।’

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যটিও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন শেষাদ্রি চারি।

সিএএ ও এনআরসি’র আগেই বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগও ভাবাচ্ছে তাকে। তিনি চীনের এ বিনিয়োগকে উল্লেখ্য করেছে ‘চাইনিজ পাজল’ বা ‘চীনা ধাঁধা’ হিসেবে। তিনি বলছেন যে চীন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের আবির্ভাবকে খুব স্বস্তির চোখে দেখেইনি, তারাই কিন্তু আজ সে দেশে ঢালাও বিনিয়োগ করছে।

দু‘দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে তারা উন্নীত করেছে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপেও, বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে তারা জোগাচ্ছে মিং-ক্লাস সাবমেরিন। বাংলাদেশে চীনের মোট বিনিয়োগ ছাপিয়ে গেছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের (প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ) পরিমাণে ২০১৮ সালে শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছে যে চীন সেটিও বিজেপি ও ভারতের কর্তাব্যক্তিদের শঙ্কার কারণ।