ভোট বর্জনের ঘোষণা বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

ঢাকা : সরস্বতী পূজা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন একই দিনে হয় ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। এর আগে ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানানো হলে, তা না মানায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু ভোট যদি ৩০ তা‌রিখ বাদে অন্য কোন দিন হয় তবে তারা ভোটে অংশ নেবেন।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সংগঠনের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ৩০ জানুয়ারি যে সরস্বতী পূজা সেটা পূর্ব নির্ধারিত ছিল। ওইদিন নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন নির্ধারণ করেছে। এই নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উৎসব এর কোনো মূল্যই নেই। বাংলাদেশ রাষ্ট্রপরিচালনার চার মূলনীতির একটি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। এটাই কি ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রমাণ। নির্বাচন কমিশন সরস্বতী পূজার দিন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে হিন্দু ধর্মের মানুষের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছে।

তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ভোট আশা করা যায় না। কারণ তারা একটি বৃহৎ সম্প্রদায়কে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য ভালো না, তারা মুজিব বর্ষের বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে চায়। যদি ৩০ ডিসেম্বর ভোট হয় তবে আমরা সেই সিটি ভোটকে বর্জন করবো। কোন হিন্দু ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। আমরা ৩০ তারিখ সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঘটপূজা করে রাজপথে অঞ্জলি নেব এবং কালো পতাকা মিছিল ধারণ করব। আর যদি ৩০ জানুয়ারি ছাড়া অন্য কোনদিন ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে তবে আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানাই। আমরা ভোটে অংশ নেবো।

সম্মেলনে সংগঠনটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র মন্ডল, সহ সভাপতি ডিসি রায়সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ এবং এর চক্রান্তের সাথে যুক্ত সকলকে আইনের আওতায় আনা সহ পাঁচ দফা দাবিতে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে জাগো হিন্দু পরিষদ।

মানববন্ধনে তারা দাবি জানিয়ে বলে,অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে, নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ করতে হবে, সংখ্যালঘু বিষয়ক কমিশন গঠন করতে হবে,দেশের বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ভাঙচুর ও দখলকারীদের দ্রুত বিচার করতে হবে এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দু শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।

মানববন্ধনে স্বাধীন বাংলা বেতার শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় বণিক, সহ সভাপতি সুমন দেবনাথ সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।