দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্বকে এখন পথ দেখায় বাংলাদেশ: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

জাতীয় : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশে এখন বিশ্বে রোল মডেল।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের দ্য অ্যাথিনি হোটেলের গ্র্যান্ড হলে দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবিলার বিষয়ে আঞ্চলিক পরামর্শমূলক কমিটির (আরসিসি) পঞ্চদশ সম্মেলনে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন,”দুর্যোগ মোকাবেলায় পথিকৃৎ ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭০ সালে। ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু হয় প্রায় ১০ লাখ মানুষের। এতবড় মানবিক বিপর্যয়ের পরও তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সে সময় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা, বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রস্তুত করেছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় ১৭২টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করেন। স্থানীয় লোকজন এর নাম দিয়েছিলে মুজিব কেল্লা।

তাঁরই সুযোগ্য কন্যা,মানবতার জননী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার বঙ্গবন্ধু কন্যা, মানবতার জননী, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ৩৭৮টি মুজিব কেল্লা নির্মাণ করেছে।

আর উপকূলে ৩ হাজার ৮৬৮টি বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টার সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১ হাজার ৬৫০টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করবার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

নেতৃত্বে বিশ্বে এখন বাংলাদেশ শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেই রোল মডেল নয়, উন্নয়নের-ও রোল মডেল হিসেবে আলাদা একটা সম্মান অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

দুর্যোগ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংহতি কে আরও সম্প্রসারণ ও জোরদার করার লক্ষ্যে বহুজাতিক এ সম্মেলনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২০ টি দেশের দুর্যোগ পরিচালনার বিষয়ে সরকারী সংস্থাগুলির প্রতিনিধি ছাড়াও অংশ নিচ্ছেন ৪০ টিরও বেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় অংশ নিতে সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা এনামুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। শুধু প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট দুর্যোগে বাংলাদেশ সামনের সারিতে অবস্থান করছে। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় দুর্যোগে প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকার বিশেষ সাফল্য পেয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বর্তমানে প্রায় ৫৬ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে আমাদের। তাছাড়া ৩২ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবক, ২৪ লাখ আনসার ভিডিপি, ১৭ লাখ স্কাউটস, ৪ লাখ বিএনসিসি, গার্লস গাইডের প্রায় ৪ লাখ সদস্য- তারাও এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। যেকোন দুর্যোগের সময় তারাও জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়ে মানবতার কল্যাণে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা, মানবতার জননী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাংলার মানুষকে শিখেছে দুর্যোগে কীভাবে বাঁচতে হয়, কীভাবে লড়তে হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিচক্ষণ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার প্রিয় নেতৃত্ব পদক্ষেপের কারণে বিশ্ব আজ দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতাকে সম্মানের চোখে দেখে।

ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটবে তিন দিনের এই বহুজাতিক সম্মেলনের।