আম‌রিকা‌তেও আ.লীগের লোকজন ধর্ষ‌ণের দা‌য়ে গ্রেফতার হ‌চ্ছে: আলাল

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

ঢাকা: আওয়ামী লীগ নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন-নিপীড়নকে শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও এক্সপার্ট করেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘এখন শুধু দেশেই নয়, আম‌রিকা‌তেও আওয়ামী লীগের লোকজন ধর্ষ‌ণের দা‌য়ে গ্রেফতার হ‌চ্ছে। পেনসিলভেনিয়ায় সেখানকার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ধর্ষণের দায়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার আছেন। এটা‌কে (ধর্ষণ) তারা বিদেশেও এক্সপার্ট করছে। নৈতিকতার কোনও পর্যায়ে নিয়ে গেছে দেশটা‌কে। বাংলাদেশের যা কিছু অনাচার-অবিচার স্বাধীনতার মূল চিন্তার বাইরে সবকিছুর মূলে হচ্ছে আওয়ামী লীগ।’

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারা দেশে যেভাবে নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন-নিপীড়ন মহামারি আকার ধারণ করেছে তেমনটি পাকিস্তান আমলেরও হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিন ।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাগপার জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আলাল এসব কথা বলেন।

দেশজুড়ে ধর্ষণ-নির্যাতনের নানামুখী চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত গোষ্ঠী হচ্ছে পাকিস্তান। সেই পাকিস্তানের মিলিটারিরাও শিশু ধর্ষণ করে নাই বা পাকিস্তান আমলেও এভাবে শিশু ধর্ষণ হয় নাই। তারা আমাদের অনেক মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে, কিন্তু আড়াই-তিন বছরের, ছয় বছরের শিশুদের ধর্ষণ করে নাই। অথচ আজকে যারা চেতনার কথা বলতে বলতে চেতনা হারিয়ে ফেলেছেন তাদের আমলে দেশে শিশু ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। নিজে নিজে এসব ঘটনা বিশ্লেষণ করে খুব কষ্ট লাগে।’

আলাল বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে বাংলাদেশের দায়িত্ব পাওয়ার পরে যে অনাচারগুলো শুরু হয়েছিল সেগুলো এখন হাজারো এবং লক্ষ শাখায় বিস্তৃত হয়ে একটি নতুন রূপ নিয়েছে। আপনারা দেখেন, বিএনপি বা জাগপা বা অন্য দল করা লাগেনা- এখন ভিন্নমতাবলম্বী হলেই তার ওপর হাজারো অনাচার অত্যাচার নির্যাতন নেমে আসে। এই হচ্ছে দেশের অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ধর্ষণ-নির্যাতনের মহোৎসব চলছে, অথচ কোথাও কোনও বিচার নাই। হাতেগোনা দু-একটি ঘটনা বাদে এ ধরনের প্রায় সব ঘটনার সঙ্গেই যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল এদেশের শিক্ষিত সমাজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো। এমনকি নব্বইয়ের আন্দোলনে সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল। আর বর্তমানে দেখেন অধিকাংশই তোষামোদী হয়ে গেছে। মৃত্যুর ভয়ে এখন সত্য বলা বাদ দিয়েছে। দেশটাকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ছাড়া উপায় নেই।’

তিনি বলেন,‘দেশের গণতন্ত্র ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আজ একাকার হয়ে গেছে। একটা থেকে আর একটা আলাদা করলে একটারও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।’

জাগপার একাংশের সভাপতি আবিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।